সজল আহমেদঃ‘কত চিঠি লিখে লোকে-কত সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কত দুঃখে ও শোকে’ কবি সুকান্তের কবিতার রানা’র আজ আর আগের মতো চিঠি নিয়ে ছোটে না। গায়ের কোনো বধূ আজ তার স্বামীর পাঠানো চিঠি পেতে ব্যাকুল হয়ে ডাকপিয়নের পথ চেয়ে অপেক্ষা করেন না। কোনো মা-বাবা সন্তানের ভালো-মন্দের খবর জানাতে পত্র লিখতে বলেন না। কয়েক বছর আগেও চিঠির জন্য ডাকঘরে লোকজনের যে ভিড় দেখা। তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়নে এক সময়ের যোগাযোগের বিশ্ব সমাদৃত অন্যতম মাধ্যম ডাক ও ডাকপিয়ন আজ বিলুপ্তির পথে। টাঙ্গাইলের সখীপুরে একদা ডাক পিয়নের কদর ছিল। ডাকবাক্সের রীতিমতো ব্যবহার ছিল। কয়েক বছর আগেও প্রিয়জনের একটি চিঠির জন্য কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডাকপিয়নের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকতেন স্বজনরা।
‘ডাকপিয়নের বাইসাইকেলের বেলের আওয়াজ শুনে যেন ঘুম আমার ভাঙল, ওই বুঝি তোমার চিঠি এলো। ’এখন আর মানুষের মাঝে নাড়া দেয় না ডাকপিয়নের বাইসাইকেলের বেলের আওয়াজ।
তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন হাতের মুঠোয়। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটসহ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে মুহূর্তের মধ্যেই যোগাযোগ সম্ভব এখন।
এখন ডাক ঘর চালু আছে আর ডাক বিভাগে চিঠি আসছে। ডাকপিয়ন আসা চিঠি মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিলেও তার হার খুবই কম। আত্মীয়-স্বজন, প্রিয়জনের চিঠির জন্য এখন আর ডাকপিয়নের অপেক্ষায় থাকতে হয় না। আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রসরতায় গুরুত্ব হারাতে বসেছে পোস্টঅফিস। তাই অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ডাকবাক্স, আগের মতো কদর নেই ডাকপিয়নের।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রাপকের কাছে তার কাঙ্খিত চিঠিপত্র, টাকা-পয়সা ও নথিপত্র যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছে দিতেন ডাকহরকরা। পাশাপাশি যারা আত্মীয়-প্রিয়জনের কাছে চিঠিপত্র বা কোনো সাধারণ ডকুমেন্ট পাঠাতে তারা ছুটে যেতেন লাল রঙের কাঙ্খিত ডাকবাক্সের কাছে। ডাকপিয়ন এসব বাক্স থেকে জমা হওয়া ডাকগুলোর বিকেলে নিয়ে ডাকঘরে ফিরে যেতেন। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে আপনজনের কাছে লেখা চিঠি পোস্ট করতে পারলেই যেন স্বস্তি। তখন ডাকবাক্সগুলোও লাল রঙে রাঙিয়ে বেশ যত্নে রাখা হতো। সে সময় ডাকবাক্সে চিঠিপত্র যাতে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট না হয় সেজন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাও করা হতো।
প্রবাসীরা ড্রাফট করে টাকা পাঠানের স্বজনদের নামে বা সরাসরি ব্যাংকে নিজেদের হিসেবে। ডাকপিয়নও এসব রেজিষ্টারী ডাক নির্ধারিত ঠিকানা ও ব্যাংকে পৌছে দিনে। ফরে তাদের কাছে ডাকপিয়নের কদরের কথা তো বলাই বাহুল্য। প্রাপকের হাতে বিদেশি কোনো চিঠি তুলে দিতে পারলেই পিয়নকে সম্মানী দিয়ে খুশি করা হতো। শুধু চিঠি নয়, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে কাগজপত্রের জন্যও ডাক পিয়নকে খুঁজতে হতো মানুষকে।
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন, আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে এখন প্রিয়জনের কোনো খবরের জন্য ডাকপিয়নের পথ চেয়ে থাকতে হয় না। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যে প্রান্তে প্রিয়জন থাকুক না কেন মুহূর্তের মধ্যে তার সংবাদ নেয়া যায়। আর সে কারণে মানুষের কাছে এখন আর ডাকপিয়নের তেমন কদর নেই। তবে শুধুমাত্র সরকারি অফিসে ডাকঘরের মাধ্যমে এখন চিঠিপত্র আদান প্রদান হয় ডাক বিভাগের মাধ্যমে। সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে ডাক ব্যবস্থাকে চালু রাখতে নতুন সংযোজন মোবাইলে নগদ-এর মাধ্যমে টাকা পয়সা আদান প্রদান করছে ও ডাকঘর সঞ্চয়পত্র চালু রেখেছেন।
উপজেলার বোয়ালী ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আবুল হোসেন বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে মাঝে ডাক ব্যবস্থাপনার গতি কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে ডাক বিভাগও এখন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে, নতুন সংযোজন মোবাইলে নগদে লেনদেন কার্যক্রম ডাক বিভাগ আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে।’
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।