নিজস্ব প্রতিনিধি:নাম তার সুভা। বয়স ১৭ থেকে ২০ এর মধ্যে। ছিন্ন কাপড়ে খাবারের খোঁজে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-শহরে ঘুরে বেড়ায়। সমাজ তাকে পরিচয় দিয়েছে সুভা পাগলি, কিন্তু পাগলির সমাজ সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, পাগলির বিয়েও হয়নি। সে হয়তো জানে না দুঃখ,কষ্ট ,ভালবাসা কী ? সে জানে না বিয়ের মর্ম, জানে না স্বামীর সোহাগ। তবুও পাগলিটা সন্তানের মা হচ্ছে। কিন্তু অনাগত এ সন্তানের দায়িত্ব নেবেন কে ? টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর শহরে অবস্থানকারী এক পাগলির গর্ভবতী হওয়া নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে সর্বত্র। কে হবে শিশুর বাবা! কার লালসার শিকার এই পাগলী এ আলোচনা এখন ‘টক অব দ্যা টাউন’।
বুধবার সকাল থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবতী গর্ভবতী হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ওই পাগলির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা-সামলোচনা চলছে। সকলেই এ জগন্য কাজ নিয়ে ক্ষোভ আর ঘৃণা প্রকাশ করছেন।
সখীপুর পৌরশহরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকদিন ধরেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান নাম-পরিচয়হীন ওই পাগলি যুবতী। যাকে সবাই ‘সুভা পাগলি’ নামেই ডাকে। কেউকেউ ওই পাগলির বাড়ি উপজেলার গড়বাড়ি, কেউবা তৈলধারা আবার কেউ কুতুবপুর বলে দাবি করেছেন। তবে কেউ তার প্রকৃত ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারেনি। শহরে যত্রতত্র তার চলাচল। যেখানে রাত সেখানেই কাত (ঘুমিয়ে) পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে- রাতের আধারে কোনো লম্পটের লালসার শিকার হয়েছে মেয়েটি।
আহমেদ শফী নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ইতোমধ্যে উৎসর্গ ফাইন্ডেশনসহ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাগলির চিকিৎসা ভার গ্রহণে এবং এক সন্তানহীন দম্পতি পাগলির সন্তানকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে যে বা যারা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর সঙ্গে এ অমানবিক কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুনসুর আহমেদ জানান, খোঁজ নিয়ে ওই নারীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। সমাজসেবা কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
