এবার দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করায় ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। সরকার সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনেছে। চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার তেমন কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই চালের দাম কেজিপ্রতি গড়ে ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, চালও কি আবার সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে? এমনিতে পেঁয়াজের ঝাঁজে নাজেহাল দেশের মানুষ। ইতোমধ্যে পেঁয়াজের দাম ট্রিপল সেঞ্চুরি ছুঁইছুঁই।
এ নিয়ে দেশের মানুষের হা-হুতাশের শেষ নেই। সবাই একটি বিব্রতকর সময় অতিক্রম করছে। তার মধ্যে প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম বেড়ে যাওয়াতে মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়ে গেছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আকস্মিক চালের দাম বাড়াতে এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি বলেন, কোনোভাবেই পেঁয়াজের মতো চালের সিন্ডিকেট গড়তে দেওয়া ঠিক হবে না। সরকারের শিগগিরই এ ব্যাপারে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, নইলে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলছে, মৌসুমের শেষ সময়ে ধানের সরবরাহ কমে আসায় চালের দাম বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছে ভিন্ন কথা। ব্যবসায়ী-মিলারদের কারসাজির কারণে চালের দাম বেড়েছে। তারা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, এবার বোরো ধানের যে ফলন তাতে মজুদ শেষ হওয়ার কথা নয়। ইতোমধ্যে আমন ধানের মৌসুম শুরু হয়েছে। মূলত বাজারে মিনিকেট, বিআর-আটাশ, লতা চালের চাহিদা বেশি হওয়াতে এসব চালের দাম তুলনামূলক বেশি।
ব্যবসায়ীরা নতুন করে বলছে, চালের দাম বেড়েছে মূলত ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায়। রাস্তার ক্ষতি এড়াতে সরকার অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মহাসড়কের ওজন স্কেলগুলোতে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যানবাহনকে জরিমানা করা হচ্ছে। মিলার এবং ব্যবসায়ীরা অবশ্য সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের নানা যুক্তি অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বছরের এ সময় সব চালের ওপর চাপ কম থাকে। তা ছাড়া ধান কাটা শুরু হয়েছে। পেঁয়াজ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। এই সুযোগে সিন্ডিকেট চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষের সঙ্গে আমরাও ধারণা করছি, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বর্তমানে চালের এ মূল্যবৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। চালের বাজার কোনোভাবেই যেন সিন্ডিকেট দখলে নিতে না পারে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। নইলে পেঁয়াজের মতো চালের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।
- সেক্ষেত্রে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে চালের তাপে দেশের মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে। এমন শঙ্কা যেন সত্যি না হয় সেটাই আমাদের কাম্য।
