ইসমাইল হোসেন: করটিয়া সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও দারিদ্রতার কারণে ভর্তি হতে পারছে না সখীপুরের দরিদ্র মেধাবী ছাত্রী আছিয়া। ভর্তির সুযোগ পেয়েও শুধুমাত্র টাকার অভাবে সে ভর্তি হতে পাচ্ছে না।
জানা গেছে, আছিয়া উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের শিরিরচালা গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে। আছিয়া যখন ১ম শ্রেণিতে পড়ে তখন তার বাবা একটি দুর্ঘটনায় পড়ে দুটি চোখের আলো হারায়। এরপর শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। মা সালেহা বেগম ঝিয়ের কাজ করে ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ১ ছেলেকেও লেখাপড়া করাতে গিয়ে মাঝ পথে গিয়ে অর্থের অভাবে পড়াতে পারেনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আছিয়ার বাবা প্রতিবন্ধি হওয়ার পর সংসারের হাল ধরার কেউ ছিল না। বাধ্য হয়ে মা সালেহাকেই হাল ধরতে হয়েছে। বসতভিটা ছাড়া কোনো জমিজমাও নেই খুব একটা। মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ, জমিতে কৃষাণীর কাজ, হাঁস-মুরগী পালন করে কোনো মতে সংসার চালানোর চেষ্টা করেছেন মা সালেহা। এ কাজ করে বড় দুই মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন তিনি। ছেলে হাবীবকেও পড়িয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। কিন্তু টাকা অভাবে ছেলেকেও তিনি পড়াতে পারেনি।
এ বিষয়ে মেধাবী ছাত্রী আছিয়া জানায়, সে ২০১৬ সালে বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৫০ এবং বড়চওনা কুতুবপুর কলেজে থেকে এ বছর ৩.৭৫ পেয়ে পাশ করেছে। পরে পয়েন্ট তালিকায় সে করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজে বাংলা বিভাগে স্থান পায়।
আছিয়ার মা সালেহা বেগম বলেন, মেয়ের স্বপ্ন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করবে। কিন্তু শুধু টাকার অভাবে মেয়ে আমার ভর্তি হতে পাচ্ছে না। সমাজে অনেক বিত্তবান সহৃদয়বান মানুষ আছে তারা যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আমার মেয়ের পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।
