বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলামধুপুরটাঙ্গাইলের পাহালু পাগলা যুগ যুগ ধরে ধুপ জ্বালিয়ে মশা তাড়াচ্ছে

টাঙ্গাইলের পাহালু পাগলা যুগ যুগ ধরে ধুপ জ্বালিয়ে মশা তাড়াচ্ছে

নিউজ টাঙ্গইল ডেস্ক: লোকটির নাম আজিজুল হক।ডাক নাম পাহালু পাগলা।বয়স আনুমানিক ৬৫ হবে।তার বাড়ি টাংগাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার আমনগ্রামে।সন্নাসী ধরনের লোক। সবসময় পাগলের বেশে থাকেন তিনি। প্রায় সময়ই থাকেন বিভিন্ন মাজারে।পাহালু পাগলা সামান্য টাকার বিনিময়ে দীর্ঘদিন যাবত মশা তাড়াতে বিভিন্ন দোকানপাট ও রাস্তাঘাটে ধুপ জ্বালিয়ে ধুঁয়া ছড়িয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, পাহালু পাগলার নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।বিয়ে করেছিলেন দুইটা।সংসারের প্রতি ছিলো না তার কোনন মায়া।প্রায় সময়ই বাইরে ঘুরাফেরা করতেন।পেটের তাগিদে তার ছোট বউকে দেখতাম একটা ঝাঁকাতে করে রুটি জাতীয় বিভিন্ন রকমের খাবার আর শুটকি নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে বিক্রি করতো।চাল অথবা টাকা দুটোর বিনিময়েই এসব বিক্রি করতেন।এভাবেই চলতো এই পাহালু পাগলার সংসার।সংসারের প্রতি পাহালু পাগলার মায়া না থাকায় বউ দুটটা তাদের মায়া ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান।

আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগেও এই পাহালু পাগলকে দেখা যেত লাল রঙের শালু কাপড়ের তৈরী একটি লুঙ্গী আর বিশেষভাবে তৈরী করা জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায়।জামাটাতে পকেটের কোন কমতি ছিলো না।পকেটগুলোতে থাকতো ধূপ। তার এক হাতে থাকতো একটা পাখা।অন্য হাতে থাকতো বিশেষভাবে তৈরী স্টিলের একটি পাত্র।একটু পরে পরে প্রত্রটিতে সে ধূপ দিতো আর বাতাস দিতো ধোয়া সৃষ্টি করতো। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এভাবে সে পুরো ধনবাড়ী বাজারের প্রতিটি দোকানে এমনকি রাস্তায় ধূপ ধোয়া ছড়াতো আর মশা তাড়াতো। সব দোকানদার তাকে ৫০ পয়সা, ১ টাকা করে দিতো।দুইটাকার বেশি কেউ কখনও দিতো না।

শুধু টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাজারে নয়, আশেপাশের মোটামোটি সবগুলা বাজারে প্রায় হাটেই তার দেখা মিলতো।এখনও তাকে একইভাবে দেখা যায়।

পুরো দেশ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।এডিস মশার কাছে সবাই বিপর্যস্ত।মশা মারার জন্য ১৮০ কোটি টাকার বিশাল একটা বাজেটও সরকার দিয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। সারদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ভারী হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।

এই পাহালু পাগলা জানতো না মশার ক্ষতিকর প্রভাব।জানেন না মশাবাহিত রোগগুলোর কথা।জানেন শুধু মশার কামুড়ে লাগে ব্যাথা।তাই সে প্রতিনিয়ত মশা তাড়াচ্ছে। প্রায় ১৬ বছর যাবত মশা তাড়াচ্ছে সে।

পাহালু পাগলা জানায়, শুধু ১৬ বছর নয়, আরও অনেক আগে থেকে এই কাজ করছে সে। মশা মারা যেন তার নেশা ও পেশা।

ধনবাড়ীর জাহিদুল ইসলাম জানায়, পৃথিবীতে এদের মতো পাগলাটে কিছু মানুষ আছে বলেই আমরা এখনও পৃথিবীতে বসবাস করতে পারছি।অনেক অনেক ভালোবাসা রইলো পাহালু পাগলার মতো হাজার পাগলাটে মানুষদের প্রতি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular