টাঙ্গাইলে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা প্রায় সবাই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন। ফলে এই তিন জেলা ফেরত মানুষরা বর্তমানে টাঙ্গাইলবাসীর জন্য আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
এদিকে আক্রান্তের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। আবার অনেকে গোপনে রাতে ওইসব জায়গা থেকে ঢুকছেন টাঙ্গাইলে।
আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় ২২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জেলার সখিপুর উপজেলায় ছয়জন, ভূঞাপুরে পাঁচজন, নাগপুরে চারজন, মির্জাপুরে তিনজন, ঘাটাইলে একজন, মধুপুরে একজন, গোপালপুরে একজন ও দেলদুয়ারে একজন। এই ২২ জনের মধ্যে ঘাটাইলের মহির উদ্দিন মারা গেছেন এবং মির্জাপুর ও ভূঞাপুরে একজন করে সুস্থ হয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে আমাদের সময়কে জানানো হয়, এই ২২ জনের মধ্যে ঢাকা ফেরতদের থেকে সংক্রমিত ১৭ জন, নারায়ণগঞ্জ ফেরত দুজন, গাজীপুর ফেরত দুজন ও রাজবাড়ি ফেরিঘাট থেকে একজন সংক্রমিত হয়েছেন।
জেলার প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি মির্জাপুরের অখিল সরকার নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকরি করতেন। পরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া ভূঞাপুরের হেলাল নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।
এদিকে করোনায় জেলার প্রথম মারা যাওয়া ঘাটাইলের মহির উদ্দিন ঢাকার একটি হাসপাতালে কিডনি রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্রান্ত হন। পরে মারা গেলে তাকে ঢাকাতেই দাফন করা হয়। ভূঞাপুরের শফিকুল ইসলাম, খন্দকার সোহাগ , আবু সাইদ, জগলুর এবং নাগরপুরের লিটন, সেলিম রেজা, সাহিনুর ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরিরত অবস্থায় সংক্রমিত হন। এরমধ্যে খন্দকার সোহাগ সুস্থ হয়েছেন, বাকিরা চিকিৎসাধীন।
নাগরপুরের মোহাম্মদ আলী ঢাকার সদরঘাটে শ্রমিকের কাজ করেন। এদিকে সখিপুরের একই পরিবারের পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের কর্তা রিপন ঢাকার কারওয়ান বাজারে সবজি বিক্রি করেন। তিনি আক্রান্ত হয়ে বাড়ি এসে স্ত্রী রহিতন নেসা, ছেলে ইমরান, লিমু ও মিল্টনকে সংক্রমিত করেন। সখিপুরের অ্যাম্বুলেন্স চালক সোনা মিয়া ঢাকায় রোগী আনা নেওয়া করে আক্রান্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া মধুপুরের নাছির উদ্দিন এবং গোপালপুরের জ্যোতি খাতুন গাজীপুরের গার্মেন্টেস শ্রমিক। তারা সেখান থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।
এখন এই তিন জেলা থেকে কেউ এলাকায় ঢুকলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে যান। অনেকে সচেতনতার জন্যে তাদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেন না। ফেরতরা বাড়ি আসার পর কেউ হোম কোয়ারেন্টিনে থাকেন। আবার অনেকে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করার চেষ্টা করেন।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিসের করোনা সংক্রান্ত ফোকাল পারসন মেডিকেল অফিসার ডা. আজিজুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রায় সকল রোগীই এই তিন জেলা ফেরত। তাই এই তিন জেলা থেকে যারা আসছেন তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। করোনা টেস্ট করে আক্রান্তদের সাথে সাথে হাসপাতালে পাঠানো এবং বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলাকে আগেই লকডাউন করা হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রায় আক্রান্তই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুর ফেরত ব্যক্তি। তাই এই তিন জেলার লোক যেন টাঙ্গাইলে ঢুকতে না পারে সেজন্য চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবু তারা গোপনে রাতে বিভিন্নভাবে চলে আসছে। এদের ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি। সেই সাথে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে আরও সচেতন হতে হবে।’
#আমাদের সময়
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।