ব্রেকিং নিউজ

এ সপ্তাহের বাজার দর হু হু করে বাড়ছে শাক সবজির দাম

নাছিরুল ইসলাম :
সখীপুরে গত সপ্তাহের চেয়ে এ সপ্তাহে বেশ কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার কিছু জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে শাক সবজির দাম অস্বাভাবিক আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বি। হঠাৎ করে শাক সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নি¤œ আয়ের সাধারণ মানুষ। সখীপুর সদর, নলুয়া, কালিদাস, চতল বাইদ, করটিয়া পাড়া, হতেয়া, কাজী পাড়া, তক্তার চালা, বেড়বাড়ী, বহুরিয়া, বড়চওনা, কচুয়া, ওয়াজেদ মার্কেট সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন – নাছিরুল ইসলাম।

এ সপ্তাহে করল্লর দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ২০ টাকা বেশী। শসা প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেশী। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২০০-২৭০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ৫০-১০০ টাকা বেশী। পাংগাস মাছ প্রতি কেজি ১২০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেশী। তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজি ১১০-১৫০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশী। সব ধরণের চাউলের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ১০০ টাকা। বেগুন প্রতি কেজি ৪০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেশী। দেশী লাউ আকার ভেদে প্রতি পিছ ৩০-৬০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০ টাকা বেশী। পোটল প্রতি কেজি ৪০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ টাকা বেশী। পেপে প্রতি কেজি ২৫ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ টাকা বেশী। পেয়াজ প্রতি কেজি ৪৫-৫০ টাকা যা গত সপ্তাহের চেয়ে ৫ টাকা বেশী। ডাটা শাক, পুই শাক,লাল শাক কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ডিমের ক্ষেত্রে। ডিমের দাম কমেছে হালি প্রতি ২ টাকা। পোল্ট্রি খামারিরা ক্ষোব প্রকাশ করে জানান, বাজারে অন্যান্য সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পেলেও ডিমের দাম দিন যাচ্ছে আর কমছে। এতে করে খামারিরা লোকসানে পড়ছে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, খাদ্য ও ঔষধের দাম বেশী। ফলে ক্ষদ্র ব্যবসায়ীর পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংসের পথে।
এ সপ্তাহে সারাদেশে বৃষ্টিপাত অনেকাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায় শাক-সবজির দাম অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টির ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে ফলে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করেন সাধারণ ক্রেতারা।
এছাড়া কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে যেমন- চিনি, আদা, কাচাঁ মরিচ, মশুর ডাল(চিকন), মুগ ডাল, খেসারি ডাল, ভোজ্যতেল, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, মুরগির মাংস, গরুর মাংস, খাসির মাংস ইত্যাদি।
ওয়াজেদ মার্কেটের দোকানদার মো. ইন্নছ আলী বলেন, পাইকারী বাজারে দাম বেড়ে গেলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব কিছুটা পড়বেই। তাছাড়া, শহরের তুলনায় গ্রামে জিনিসের দাম একটু বেশী। কারণ, রাস্তা কর্দমাক্ত হওয়ায় পরিবহন খরচ অনেক বেশী। রাস্তা শুকিয়ে আসলে জিনিসের দাম কমে আসবে। তক্তার চালা বাজারের ক্রেতা মো. আপন সরকার কোকিলা ক্ষোব প্রকাশ করে বলেন, শাক সবজি, চাউল, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য জিনিসের দাম যে হারে বাড়ছে ক্রেতারা যেন অসহায় হয়ে পড়েছে। সাধারণ জনগণ জানান, সখীপুরে বাজার মনিটরিং করা হলে জিনিস পত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সখীপুর সদরে কাঁচা মরিচ ক্রেতা রোমা আক্তার ক্ষোব প্রকাশ করে বলেন, একে তো চালের বাজারে আগুন তারপরেও কাঁচা মরিচের এত দাম কল্পনাও করা যায় না। বাজার মনিটরিং না থাকায় যে যার ইচ্ছে মত দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, সরকারি ভাবে বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে কাঁচা মরিচের দাম যেন সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে এসে ভোক্তা একটু স্বস্তি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*