ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন এক পথচারী। লাশ ঘিরে কৌতুহলী মানুষের জটলা। তবে কেউ লাশটি উদ্ধারে এগিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। করোনার ভয়েই তারা নিরাপদে দাঁড়িয়ে জটলা করছেন।
বিষয়টি নজরে আসে ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী এক পুলিশ সদস্যের। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখে একটি ভ্যান জোগাড় করেন তিনি। কিন্তু চালক তার ভ্যানে লাশ তুলতে দিতে রাজি নন। লাশ নিয়ে ভ্যান চালিয়ে থানায় নিতেও অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
কারো সহায়তা না পেয়ে অবশেষে ওই পুলিশ সদস্য নিজেই লাশ ভ্যানে তুললেন। নিজেই চালিয়ে নিয়ে চললেন থানায়।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাইনবোর্ড এলাকায়।
ওই পুলিশ সদস্যের নাম মো. রুবেল মিয়া। তিনি গাজীপুর মেট্টাপলিটন পুলিশের গাছা থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।
রুবেল মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার রাতে মোবাইল ডিউটি করছিলাম। রাত দুইটার দিকে মালেকেরবাড়ি থেকে আসার পথে সাইনবোর্ড এলাকায় রাস্তার অপর লেনে কিছু লোক জড়ো হয়ে থাকতে দেখে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ৫০/৬০ বছর বয়সি একজন লোক মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার পরনে সাদা সার্ট, মাথায় সাদা টুপি ছিল।
লোকটির পিঠে ও মাথার উপর দিয়ে গাড়ির চাকা যাওয়ার ছাপ ছিল। মহাসড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তায় পড়ে গেলে তার উপর দিয়ে গাড়ির (ট্রাকের) চাকা গিয়েছে বলে তার ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়ার জন্য একটি ভ্যানগাড়ি খুঁজতে থাকি। এক পর্যায়ে একটি ভ্যানগাড়ি পাওয়াও যায়। তবে চালককে লাশটি থানায় নেওয়ার অনুরোধ করলে চালক তার ভ্যানে লাশ তুলতে এবং চালিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে অপর এক ব্যক্তির সহযোগিতায় ভ্যানে লাশ তুলে নিজেই ভ্যান চালিয়ে থানা পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে যাই।’
এক প্রশ্নে রুবেল বলেন, ‘লাশের অবস্থা দেখে হয়ত চালক তার ভ্যানে লাশ তুলতে এবং চালিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।’
গাছা থানার এসআই মো. কামরুজ্জামান জানান, শনিবার সকালে ওই ব্যক্তির লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখনো (শনিবার রাত সাড়ে ১১.৩০টা পর্যন্ত) নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।