ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের ফতু’ল্লায় বি’স্ফোরিত তল্লা বড় ম’সজিদে এসিগুলো অ’ক্ষতই রয়েছে। পুড়েছে শুধু এসির ফিল্টারগুলো। ম’সজিদে তেমন কোনো সরঞ্জাম বা আসবাবপত্র না থাকলেও চূর্ণ হয়েছে জানালার কাচ ও দেয়ালের টাইলস। এছাড়া কো’রআন শরীফ ও হা’দিসের বইগুলো রয়েছে অ’ক্ষতই।
শনিবার ভোরে সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় পিয়াস মিয়া বলেন, ম’সজিদের ভিতরে থাকা ৬টি এসির ফিল্টার ও বিদ্যুতের সং’যোগ তার, না’মাজ পড়ার জায়নামাজ, তসবিহ, প্লাস্টিকের চেয়ার পু’ড়ে গেছে। কিন্তু কো’রআন শরীফ ও হা’দিসের বইগুলোর কিছুই হয়নি।
তল্লা এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান বলেন, চেয়ারগুলো পুড়ে গেছে। দেখলাম পোড়া সেই চেয়ারগুলোতে মুস’ল্লিদের পুড়ে যাওয়া চামড়া লেগে আছে। র’ক্ত জমাট হয়ে ম’সজিদের ভিতরে ও বাহিরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
এদিকে প্রাথমিকভাবে অনেকেই এটি বি’স্ফোরণের ঘ’টনা হিসেবে উল্লেখ করলেও মূলত তা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘ’টেছে বলে জানিয়েছে ফা’য়ার সার্ভিস। ম’সজিদটির ভেতরে খোঁ’জ মিলেছে গ্যাস লাইনের অ’সংখ্য লিকেজের।
ফা’য়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদু’ল্লাহ আল আরেফিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় ওই বি’স্ফোরণের ঘ’টনা ঘ’টে। এতে ইমাম ও মুয়াজ্জিন, ফটো সাংবাদিক, জে’লা প্রশা’সনের একজন কর্মচারীসহ প্রায় ৪৫ জন আ’হত হয়।
তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।
মৃ’ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
এদিকে, দু’র্ঘটনার পর ঘ’টনাস্থল পরিদ’র্শন করে ফা’য়ার সার্ভিসের টিম। রাত পৌনে ১১টার দিকে আবদু’ল্লাহ আরেফিন গ’ণমাধ্যমকে জানান, ঘ’টনাস্থল পরিদ’র্শন করে দেখা গেছে ম’সজিদের নিচ দিয়ে গ্যাসের একটি পাইপ রয়েছে। ওই পাইপের লিকেজ দিয়ে ম’সজিদের ভেতরে গ্যাস জমে যায়।
এর মধ্যে এসি চলার কারণে ম’সজিদের ভেতরে সবগুলো জানালা ও দরজা ব’ন্ধ ছিল। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে পারেনি। তিনি বলেন, বি’স্ফোরণের আগে কেউ হয়তো বাতি বা বিদ্যুতের কিছু জালানোর সময় স্পা’র্ক করে। সেই স্পা’র্ক থেকেই বি’স্ফোরণ ঘটে।
সঙ্গে সঙ্গে সেটার কারণে এসি ও বাইরের ট্রান্সফরমারেও আ’গুন ধ’রতে পারে। আবদু’ল্লাহ আরেফিন বলেন, আমরা এখানে এসে প্রথমেই ধারণা করি এসিগুলো বি’স্ফোরণের সঙ্গে বৈদ্যুতিক কারণের সং’শ্লিষ্টতা কম। পরে মেঝেতে থাকা পানিতে গ্যাসের বুদবুদ উঠায় স’ন্দেহ হয়।
এরপর দেখা যায়, ম’সজিদের নিচে দিয়ে তিতাস গ্যাসের অনেকগুলো লাইন গেছে। লাইনের পাইপগুলোর প্রতিটিতে একাধিক লিকেজ রয়েছে। সেই লিকেজের গ্যাস সমসময় ম’সজিদে উঠত।
তিনি বলেন, না’মাজের আগে থেকেই ম’সজিদ ব’ন্ধ করে এসিগুলো চালু করার ফলে পুরো রুমেই এসি ও গ্যাস মিশে যায়। আর গ্যাসের ধ’র্মই হল বি’স্ফোরণের অবস্থা তৈরি হলে বা কোনও আ’গুনের সং’শ্লিষ্টতা পেলে এরা বি’স্ফোরিত হয় বা জ্ব’লে উঠে। সেই সূত্র মতেই এই ঘ’টনা ঘ’টে। সেই সঙ্গে এসিগুলো বি’স্ফোরিত হয় কারণ এসিতেও গ্যাস রয়েছে।
ফা’য়ার সার্ভিসের ওই কর্মক’র্তা বলেন, আমরা ধারণা করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তারা দ্রুত এখানে এসে আমাদের ধারণাকে নিশ্চিত করে। তারা জানান- গ্যাসের লাইন থেকেই এই বি’স্ফোরণ হয়েছে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।