শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে মোবাইলে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

টাঙ্গাইলে মোবাইলে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্কঃ মোবাইলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে স্কুল ছাত্রী খোদেজা খাতুন। প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে বন্ধুদের সহযোগিতায় একাধিকবার ওই তরুনী ধর্ষণের শিকার হয়। তারপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে তার লাশ ফেলে দেয়া হয় টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়কের ধারে। হত্যার এমন বর্ণনা দিয়েছে পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার প্রেমিক টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাউয়াইল এলাকার নগেন চন্দ্র দাসের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ও তার সঙ্গীরা। হত্যার শিকার খোদেজা খাতুন গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের খোকন মন্ডলের মেয়ে এবং জয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

এরআগে গত ৩ আগষ্ট টাঙ্গাইল-তারাকান্দি সড়কের ভূঞাপুর উপজেলার ভরুয়া এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক তরুনীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরে ওই তরুনীর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে ভূঞাপুর ছাব্বিশা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

পরে গত ৬ আগষ্ট কৃষ্ণ চন্দ্রকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নামে ভূঞাপুর থানায় ধর্ষন ও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা ঘটনার মূলতোহা প্রেমিক কৃষ্ণ চন্দ্র দাসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে ঘটনার ৫দিনের মধ্যেই আসল রহস্য বের করে পিবিআই। পরে গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করেছে পিবিআই।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোপালপুর উপজেলার ঝাউয়াইল এলাকার নগেন চন্দ্র দাসের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস, ধনবাড়ি উপজেলার বলিভদ্র এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে সৌরভ আহম্মেদ, একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান টিটু ও মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান।

রোববার (৮ আগষ্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন প্রেস ব্রিফিং করে জানান, গত ৩ আগষ্ট টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভরুয়া এলাকায় অজ্ঞাতনামা বস্তাবন্দি অবস্থায় এক তরুনীর লাশ উদ্ধার করে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। পরে যুবতির পরিচয় না পেয়ে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পিবিআই ঘটনা স্থলে গিয়ে অনুসন্ধান চালায়। এরপর গত ৫ আগষ্ট বিভিন্ন সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে ওই তরুনীর বাবা লাশের ছবি দেখে সনাক্ত করে । এর আগে গত ২ আগষ্ট নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয় খাদিজা খাতুন। পরে পিবিআই টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উৎস এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকারোক্তিতে জানায়, কৃষ্ণ চন্দ্র দাসের সাথে ওই তরুনীর বেশ কিছুদিন পূর্বে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সেই সূত্র ধরেই ওই তরুনীকে ধনবাড়িতে এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের এক পর্যায়ে ওই তরুনী ডাক চিৎকার করলে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ওই তরুনীর লাশ কৃষ্ণের তিন বন্ধু মিলে বস্তায় ভরে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভরুয়া এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular