আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কখনও ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, আবার কখনও সংবাদপত্রে দেওয়া হচ্ছে চাকরির বিজ্ঞাপন। নিজের এলাকায় কাজ করে বেশি টাকা আয় করার সুযোগেই লুকিয়ে থাকছে দেহব্যবসার ফাঁদ। একবার চাকরির লোভে সেই ফাঁদে পা দিলেই হারিয়ে যেতে হবে এক অন্ধকার জগতে।
এভাবেই চাকরির লোভে পরে দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে ডুয়ার্সের প্রত্যন্ত গ্রাম, চা বাগান এলাকার বহু মেয়ে এমনকি গৃহবধূরাও স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য টাকা উপার্জনের বিজ্ঞাপন দেখে ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছেন। ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও লাভ নেই। মহিলাদের ওপর রীতিমতো নজরদারি চালায় এজেন্টরা। বেগতিক দেখলেই দালালরা নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করে ফের ওই মহিলাদের দেহব্যবসায় নামাতে বাধ্য করে।
সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এক্ষেত্রে মূলত অল্পবয়সী মেয়েদের টার্গেট করা হয়। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে নামী হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়। বহু ক্ষেত্রে ভুল বুঝিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য টাকা দেওয়া হয়। অনেক পড়ুয়াই কাঁচা টাকার লোভে এই টোপে পা দেয়। এরপরই দেহব্যবসায়ীদের তালিকায় চলে আসে তারা।
তারপরে সেখান থেকে আর বেরোতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে আবার পড়ুয়ারা সমবয়সীদের এই চক্রে টেনে নিয়ে নিয়ে আসে। ভাড়া করা ফাঁকা বাড়ি, হোটেল, এমনকি নির্জন জায়গায় চলে দেহব্যবসা। পুরো কাজটাই হয় এজেন্টের মাধ্যমে। এজেন্টদের দর এক হাজার টাকা থেকে শুরু। চাহিদা বাড়লে দরও বাড়ে।
এজেন্টদের কাছে থাকে মহিলাদের নামের তালিকা, ফোন নম্বর ও ছবি। হোয়াটসঅ্যাপে ‘কাস্টমার’-দের যোগাযোগ করে জায়গা চিহ্নিত হয়। তবে করোনার জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিধিনিষেধ থাকায় ভাড়া বাড়িতেই এখন দেহব্যবসা চলছে। পুজোর মরশুমে আলিপুরদুয়ারের একটি হোটেলে দেহব্যবসার অভিযোগ উঠেছিল। ডুয়ার্সের জঙ্গল সংলগ্ন বেশ কয়েকটি রিসর্ট ও হোটেলও এখন দেহব্যবসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। জঙ্গলঘেরা কয়েকটি হোম স্টে মালিকদেরও বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে এই কাজে শামিল করা হচ্ছে।
ওই দালাল চক্রের খপ্পরে পরছেন শহরের কমবয়সী মেয়ে এবং বাড়ির বধূরাও। কিন্তু এই দেহব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হয় না কেন? এমন অভিজ্ঞতার শিকার এক গৃহবধূ জানান, লোকলজ্জার ভয়ে এসব নিয়ে কখনও পুলিশে অভিযোগ দায়ে করেননি। চুপচাপ মেনে নিয়েছেন। আলিপুরদুয়ার মহিলা থানার ওসি তৃষ্ণা লিম্বু বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এমনকি এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ করা হবে।
এভাবে কমবয়সীদের দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন সমাজকর্মীরা। তাঁদের দাবি, সংবাদপত্রগুলি বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করে নেওয়ার জন্য বারবার লিখে দিচ্ছে। তারপরও অনেকে এই ফাঁদের পা দিচ্ছে। খবরের কাগজ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কারা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, তার ওপর নজরদারি চালানোর জন্য পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সুত্রঃ উত্তর বাংলা সংবাদ
