বুধবার, জুন ১০, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাসখিপুরসখীপুরে ট্রাক্টরের চাকায় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

সখীপুরে ট্রাক্টরের চাকায় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু :টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাক্টরের চাকায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে গ্রামের কাঁচা ও পাকা সড়ক। এ ছাড়া মূল সড়কে ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। গ্রামীণ সড়কে চলাচলকারী জনসাধারণ এসব ট্রাক্টরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সখীপুরে এসব ট্রাক্টর বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গত ২১ মার্চ উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায়ও এ দাবি জানান উপস্থিত সদস্যরা।

চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রাক্টরের পেছনে ট্রলি লাগিয়ে এখন ট্রাক বা পরিবহন হয়ে গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক ক্ষতি করছে । উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কে অবাধে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে এই যন্ত্রদানব। বিরামহীন চলাচল ও শব্দ দূষণে আশপাশের গ্রামের মানুষ, রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ইট, মাটি ও গাছসহ নানা ভারী পণ্য পরিবহনের কাজেই মূলত ব্যবহৃত হচ্ছে এসব ট্রাক্টর। এসব ট্রাক্টরের নেই কোন বৈধ সড়কে চলার অনুমোদন (রোড পার্মিট)। তাছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৫ থেকে ২০ বছরের শিশু-কিশোররাও এসব ট্রাক্টর অবাধে চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ ছাড়া সড়কে চলার মত প্রয়োজনীয় সিগন্যাল লাইটও ব্যবহার করা হয়নি এসব ট্রাক্টরের গায়ে।

আইন শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তাঘাট ধ্বংস করছেন গুটিকয়েক ইট ভাটার মালিক ও কাঠ ব্যবসায়ীরা। তাঁরা স্বল্পমূল্যে ফসলি জমির মাটি কিনে ভাটায় ও কাঠ ব্যবসায়ীরা গাছ কেটে করাতকলে পরিবহনের ফলে বিলীন হচ্ছে রাস্তাঘাট এবং ট্রাক্টরের চাকায় প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে গ্রামের সদ্য নির্মিত কাঁচা, আধাপাকা সড়কগুলো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন বলেন, ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করার কথা থাকলেও এখন ট্রাক্টর চলছে সড়কে। ফলে ট্রাক্টরের বড় চাকায় ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ওইসব ট্রাক্টর যাতে সড়কে চলতে না পারে এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সখীপুর হেভী ইকুইপম্যান্ট ও মাটি কাটা সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, সবার ধারণা ট্রাক্টর সড়কে চলাচল করলে সড়কের ক্ষতি হয়, কিন্তুএমন ধারণা ঠিক নয়। তিনি ট্রাক্টরের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, একটি ট্রাক ৫ টন মালামাল নিয়ে চলার কথা থাকলেও ১০টন বা তার চেয়ে বেশি মালামাল নিয়ে চলাচল করে সড়কের ক্ষতি করছে। কিন্তু একটি ট্রাক্টর সর্বোচ্চ দুই টন মাল নিয়ে চলাচল করে। সে ক্ষেত্রে সড়কের তেমন ক্ষতি হয় না।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভার সভাপতি ফারজানা আলম বলেন, ট্রাক্টরের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular