এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের থাকার ঘরের জমি দখলে নিয়ে বৃদ্ধ মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন পাষণ্ড সন্তানরা। উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চকচকিয়া শ্রীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম (৭০) গত নয় দিন ধরে মেয়ের বাড়ি পাশ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার কৈয়াদী গ্রামে অবস্থান করছেন। আনোয়ারা বেগম ওই গ্রামের মৃত মাঈন উদ্দিনের স্ত্রী। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় ছেলেদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই মা।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগমের স্বামী মাঈন উদ্দিন প্রায় ৩০ বছর আগে মারা যান। মারা যাওয়ায় পর স্বামীর রেখে যাওয়া ২২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করে অনেক কষ্টে ৫ ছেলে ও ১ মেয়েকে বড় করেছেন তিনি। সম্প্রতি সেই জমিটি ৫ ছেলে কালাম (৪৫), আমিরা (৪৩), সুমিয়া (৩৮), আলম (৩২) ও সালমান (৩০) জোর করে দখল করে নিয়েছেন। অন্যদিকে মায়ের থাকার একমাত্র ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে গত নয় দিন আগে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ওই সন্তানেরা ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃদ্ধ আনোয়ায়া বেগমকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে কাদতে দেখে তাকে কি জন্য কাদছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া আমার ২৩ শতাংশ জমি ছিল। কদিন আগে জমিটুকু ছেলেরা দখলে নিয়েছে। আবার আমার থাকার ঘরটি ভেঙ্গে দিয়ে আমাকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। কিছুদিন আমি এবাড়ি ওবাড়ি ছিলাম। খবর পেয়ে মেয়ে এসে তার বাড়িতে নিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এতো কষ্ট তরে সন্তানদের বড় করলেও তারা আমাকে কোন দিনও ভরন পোষণের খরচ দেয় নাই। বাবারা আমি আমার ছেলেদের বিচার চাই আমার স্বামীর ভিটা ফিরা পাইতে চাই। আমি বাকিটা জীবন ওখানেই কাটামু।
এ ব্যাপারে আনোয়ারার বড় ছেলে আবুল কালামের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, জমি জোর করে দখলে নেওয়া হয়নি। ওখানে আমাদের থাকার জন্য ঘর বানাবো তাই পূর্বের ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে ।
আনোয়ারার মেয়ে সুমিয়া বেগম (৩৮) বলেন, ভাইয়েরা মায়ের জমি দখল নিয়েছে। থাকার একমাত্র ঘরটি ভেঙে দিয়ে এক কাপড়ে মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আলম বলেন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
-
"নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন। 