মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
Homeদেশের খবরখুন হওয়ার ১ মাস পর জীবিত উদ্ধার

খুন হওয়ার ১ মাস পর জীবিত উদ্ধার

 

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে বগুড়া থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। রোববার (২১ আগস্ট) সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রাম থেকে গুম হন নুর ইসলাম চৌধুরী। এ ঘটনায় ২৭ জুলাই স্থানীয় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ফরিদপুর আদালতে একটি মামলা করেন তার স্ত্রী আন্না বেগম। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সালথা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- রাঙ্গারদিয়া গ্রামের মান্নান মাতবর, সিদ্দিক মাতবর, সানোয়ার মাতবর, মুনছুর মুন্সী, হাবিব শেখ, আনিছ শেখ, হাসান শেখ, বাবলু মোল্লা, রাকিব শেখ, দবির শেখ, কবির শেখ, ইসমাইল মোল্লা, হিলাল শেখ ও হিমায়েত শেখ।

নুর ইসলামের স্ত্রী আন্না বেগম মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ‘আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আমার স্বামী একজন দরিদ্র কৃষক। কিছুদিন আগে গাছ কাটা নিয়ে মামলার এক আসামি আনিচের সঙ্গে আমার স্বামীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ১৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে আমার স্বামী স্থানীয় সুইচগেট বাজারে চা খেতে যায়। সেখানে আসামিরা আমার স্বামীকে খুন করে লাশ গুম করেছে।’

তবে আসামিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে এলাকাছাড়া করে রেখেছে নুর ইসলামের স্ত্রী। মিথ্যা মামলা দেওয়ায় আমরা তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করব। সঠিক তদন্ত করে সত্য ঘটনা উদ্‌ঘাটন করায় সালথা থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালথা থানার এসআই ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করার পর অনেক কিছু বেরিয়ে আসে। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমেও আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাই। এসব তথ্যের সূত্র ধরেই নুর ইসলামকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। মূলত তদন্ত করে আমি যেটা পেয়েছি তা হলো- মামলার আসামিদের একজনের বোনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল নুর ইসলামের। ঘটনার রাতে ওই আসামির বোনের সঙ্গে পরকীয়ায় ধরা খেয়ে মারধরের শিকার হন নুর ইসলাম।’

 

তিনি আরও জানান, মার খাওয়ার পর পরিবারের পরামর্শে নুর ইসলামকে ওই রাতেই বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন তিনি বগুড়ায় তার শ্যালক ওমর ফারুকের কাছে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি আফরিন জুট মিলে চাকরি নেন। এদিকে তার স্ত্রী আন্না বেগম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে এলে সঙ্গীয় পুলিশ দিয়ে বগুড়া সদরে গিয়ে প্রথমে তার শ্যালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নুর ইসলামকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি মো. শেখ সাদিক বলেন, ‘নুর ইসলামকে লুকিয়ে রেখে তার স্ত্রী মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আমরা তাকে জীবিত উদ্ধার করে শনিবার আদালতে পাঠিয়েছি। আদালত তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আমরা নুর ইসলামের স্ত্রী আন্না বেগমকে খুঁজছি। মিথ্যা মামলা দেওয়ায় তাকে আইনের আওতায় না হবে।’

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular