এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ৬০নং হাতীবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার (৫২) এর বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণীর এক হিন্দু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর একটি কক্ষে আটকিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক হাতীবান্ধা মহিষডাঙ্গা এলাকার ক্ষিতীশ সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় গত ২ নভেম্বর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গের বিচার ও বদলি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি জোসনা সরকার। তবে একটি কুচক্রী মহল ওই শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন বলে জানান এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর একটি কক্ষে প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার পঞ্চম শ্রেণীর ওই ছাত্রী (১১)কে কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। সে উচ্চস্বরে চিৎকার দিলে শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিলেও শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে হুমকি দেয়। শিক্ষার্থী ভয়ে পরপর দুইদিন কিছু না বললেও পরবর্তীতে গত ৩১ অক্টোবর রবিবার তার পরিবারের কাছে সবকিছু প্রকাশ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শুকলাল সরকার ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য স্বপন কুমার সরকার।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য নিপেন মজুমদার বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ছাত্রীর শ্লিলতাহানীর প্রমাণ রয়েছে। লজ্জায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা গোপন রেখেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানির পর অভিযুক্ত হাতীবান্ধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকারের দুটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জোসনা সরকার অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বদলি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষকের অসভ্যতার কারণে দিনদিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাফিউল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠতদন্তের পর শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।