মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে আ’লীগ নেতা বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, কিশোরীর মামলা

টাঙ্গাইলে আ’লীগ নেতা বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, কিশোরীর মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এক কিশোরী। ওই মামলায় বড় মনির স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে।ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল জেলা এডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব এবং টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য ছোট মনিরের বড় ভাই।

মামলা দায়ের পর বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষা শেষে জবানবন্দির জন্য কোর্টে পাঠানো হয়েছে। দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে বুধবার (৫ এপ্রিল) রাতে ওই ভুক্তভোগী কিশোরী টাঙ্গাইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ৮।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা ও মা মারা গেছেন। এর ফলে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার ভাইয়ের সাথে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এ কারণে কিশোরী টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব ও
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের কাছে সহযোগিতা চায়।

পরে গত ১৭ ডিসেম্বর শহরের আদালতপাড়ায় বড় মনির নিজের বাড়ির পাশে একটি ১০ তলা ভবনের চতুর্থ তলা ফ্ল্যাটে যেতে বলেন। এতে বড় মনির তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাকে বাসায় ডেকে নেয়। পরে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রস্তাব দেয়। কিশোরী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং মোবাইলে ছবি তুলে রাখে। পরবর্তীতে তুলে
রাখা ছবি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে বড় মনির। এতে বর্তমানে তিনি ৩ মাসের অন্ত:সত্ত্বা।

এ ঘটনায় পরে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেয় বড় মনির। কিশোরী সন্তান নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে বড় মনি তার শ্বশুরবাড়ী আদালত পাড়ায় তুলে নিয়ে যান। সেখানে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এরপরও কিশোরী বাচ্চা নষ্ট করতে রাজি না হওয়ায় ওই বাসায় এক কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন।

পরে তাকে সেখানে আবার ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বড় মনির স্ত্রী তাকে মারপিট করেন। এতে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ৩টার দিকে বাসায় পৌঁছে দেন। এরপর থেকেই তাকে নানা হুমকি দেয়া হতো। শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার জন্য মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

টাঙ্গাইল সদর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছে এক কিশোরী। মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। পরে কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এনিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে কিশোরীর শরীরে ধর্ষণে কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে সোয়াপ টেস্ট পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তবে মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা বলে প্রাথমিক নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular