শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারসের স্বাদের সুনাম দেশজুড়ে

টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারসের স্বাদের সুনাম দেশজুড়ে

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: বাঙ‍ালির ফল বিলাসের তালিকায় অন্যতম আনারস। শুধু ফল বললে ভুল হবে, আনারসের রয়েছে বিবিধ ব্যবহার। রোগীর পথ্য, মাছের নানা পদে, সালাদ বা জুস কতোভাবেই না আনারস খাওয়া যায়। আনারস একটি অর্থকরী ফসলও বটে। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও আনারস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’।

আমাদের দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, ঢাকা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, নরসিংদী জেলায় প্রচুর পরিমাণে আনারসের চাষ হলেও মধুপুরের আনারসের স্বাদের সুনাম দেশজুড়ে।

মধুপুর অঞ্চলে জন্মানো আনারস বিক্রির জন্য বেশকিছু হাট বা বাজার রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম জলছত্র হাট। এ হাটে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি একটি সুঘ্রাণ আপনাকে মোহিত করে দেবে। অন্যান্য হাটের মতো এটা বৈকালিক হাট নয়, এটা সাত সকালের হাট। সঠিক করে বলতে আনারসের সব হাটই সকাল বেলার হাট।

প্রত্যুষে হাটুরের দল তাদের ফলানো আনারস নিয়ে জলছত্র হাটে হাজির হয়ে সরগরম করে ফেলে। সকাল ৮টাতেই কিলবিল করে মানুষ ঢাকা মহাসড়ক বা প্রধান সড়কের দু’পাশের এ হাটে। কেউ বাইসাইকেলে ঝুলিয়ে, কেউ ঘোড়ার গাড়িতে, কেউ পিকআপ ভ্যানে করে নিয়ে আসেন আনারস।

মধুপুরের জাঙ্গালিয়া, অরুণখোলা, ষোলাকুঁড়ি ও আউশনাড়াসহ আশপাশের এলাকা থেকে বাইসাইকেলের দু’পাশে, ঘোড়ার গাড়িতে, রিকশা ভ্যানে অথবা পিকআপে করে আনারস নিয়ে আসছে এ হাটে। সপ্তাহে শুক্র ও মঙ্গলবার হাট বসে জলছত্রে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা আসেন আনারস কিনতে। রাস্তার দু’পাশে এখানে-ওখানে স্তুপ করে রাখা হয় আনারস। সেখান থেকে দরদাম করে দূর-দূরান্তের পাইকাররা কিনে ট্রাক বা পিকআপে বোঝাই করেন। এভাবে আনারস চলে যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

মধুপুরের আনারসের স্বাদে প্রাণভরে তৃপ্ত হন সারাদেশের মানুষ। দেশজুড়ে মধুপুরের জলডুগি, হানিকুইন ও জায়ান্টকিউ আনারসের আছে সুখ্যাতি।

মধুপুরের অরুণখোলা, ষোলাকুঁড়ি, আউশনাড়া ইউনিয়নে আনারসের ফলন সবচেয়ে ভালো হলেও সারা মধুপুরেই আনারসের ফলন হয়। প্রাকৃতিকভাবে আষাঢ়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আনারস পাকার মৌসুম। তবে সারা বছরই অল্প-স্বল্প আনারস বাজারে পাওয়া যায়। গারো বাজার, মধুপুর বাজার ও ২৫ মাইল বাজারে আনারসের বেচাকেনা হলেও জলছত্র বাজারের পাশ ঘেঁষে ঢাকা মহাসড়কের দু’পাশে বসে আনারসের সবচেয়ে বড় হাট।

সাইকেল করে আনা আনারস বিক্রেতা আনোয়ার বলেন, প্রতি ভ্যানে ১০৩টি আনারস থাকে। কিন্তু বিক্রি হয় ১০০টি হিসেবে। আনারাস বিক্রি হয় আকার ও জাত ভেদে। সাধারণত এ হাটে বড় আকারের আনারস প্রতিটি পাইকারি বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, মাঝারিগুলো ১৬ থকে ২০ টাকায়। আবার একটু ছোট আকারের প্রতিটি বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৫ টাকায়।

সারাদেশের রসনা বিলাস মেটানোর পাশাপাশি মধুপুর অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা আবর্তিত হয় এ জলছত্র হাটকে ঘিরে। ঢাকা থেকে সরাসরি মধুপুরে বাসে করে অথবা ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে মির্জাপুর-সখীপুর হয়ে বা ঢাকা-ময়মনসিংহের ভালুকা হয়ে বা ত্রিশাল হয়ে যাওয়া যায় এ সুঘ্রাণের হাটে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular