রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

টাঙ্গাইলে প্রধান শিক্ষকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গোসাই জোয়াইর আজিম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী শিক্ষক সুবীর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই বিল নম্বর একাধিকবার ব্যবহার, বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বরাদ্দ আত্মসাৎ, পুকুর লিজের অর্থে অনিয়ম, উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে ইতোমধ্যে একটি অডিট ও তদন্ত কমিটিও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালনকালে প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন পরীক্ষার কাগজ ও প্রশ্নপত্র কেনার নামে টাঙ্গাইল উপজেলা শিক্ষক সমিতির ১৮৪ নম্বরের একই বিল চারবার ব্যবহার করে মোট ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া উপজেলা শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের ৮৮০ নম্বরের একই বিল তিনবার ব্যবহার করে আরও ৬১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন বলেন, একই বিল নম্বরের একাধিক বিল হওয়ার সুযোগ নেই। এমনটি হলে সেটি ভুয়া বিল বলেই প্রতীয়মান হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সরকারি এক লাখ টাকার বরাদ্দ পেলেও কোনো যন্ত্রপাতি না কিনে ঢাকার টিকাটুলির ঠিকানা ব্যবহার করে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র তৈরি করে পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা ব্যক্তি আনোয়ার দাবি করেন, তার নামে কোনো দোকান বা ট্রেড লাইসেন্স নেই এবং তিনি কখনো এ ধরনের কোনো দরপত্রে অংশ নেননি।

এছাড়া বিদ্যালয়ের পুকুর লিজের এক লাখ ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। একই সময়ে উপবৃত্তির দুই লাখ এক হাজার ৮৭০ টাকাসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে মোট সাত লাখ ৫৩ হাজার ৪০১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক সুবীর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে পুকুর লিজের ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ওয়েবসাইট তৈরির নামে ভুয়া বিল দাখিল, ব্যক্তিগত খাতে বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় এবং বিভিন্ন ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে মোট দুই লাখ ৭৮ হাজার ৩৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সব অভিযোগ সত্য নয়। কিছু ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে।” বিজ্ঞানাগারের বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, “ওইরকমই পেয়েছি। কিছু ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। বিষয়টি অডিট পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে আলোচনা করেছি।”

সুবীর চন্দ্র রায় বলেন, “আমি টাকা নেইনি। ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকাকালে শুধু বিল অনুযায়ী টাকা দিয়েছি। কোথাও ভুল থাকলে প্রমাণ হলে তা পরিশোধ করব।”

অভিযোগ রয়েছে, করণিক জহিরুল ইসলামও ভুয়া সনদ ও প্রশংসাপত্র তৈরি করে অর্থ আদায় করেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলতে চান বলে জানান।

বিদ্যালয়ের তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এস এম নূরুল আলম রেজভী বলেন, অভিযোগ তদন্তে গঠিত অডিট কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো তা পরিশোধ করেননি। তিনি দাবি করেন, কোনো বিল-ভাউচারে পরিচালনা পর্ষদের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিত অভিযোগ বা সংবাদ প্রকাশিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী শিক্ষক সুবীর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে পূর্বের একটি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular