নিজস্ব প্রতিনিধি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মাদক ঢোকানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী তাজ প্যালেস ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ডেঙ্গু ও মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘মাদক নয়, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীলতাই হোক তারুণ্যের শক্তি’ প্রতিপাদ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বাংলাদেশের কোথাও কিন্তু মাদকের ফ্যাক্টরি নাই। এগুলো আসলো কোথা থেকে? পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং মিয়ানমার থেকে। তারা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মাদক ঢুকিয়ে দেয় এবং দিচ্ছে, যাতে করে বাংলাদেশের যুবসমাজ ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কি আমাদের দেশ গড়ব, নাকি ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে স্পিড ধারণ করেন, সবার আগে বাংলাদেশ। সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।’
মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে মাদকের অবস্থা ভয়াবহ। কোনো কোনো এলাকায় ২৩ শতাংশ। আমরা যদি এখন এই মাদকের লাগাম টেনে না ধরি, সচেতন না হই, একসময় এই দেশটি ভেঙে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের লক্ষ্য ঠিক রেখে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। শিক্ষার্থীরা মাদকের দিকে ধাবিত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজ ও দেশের ওপর পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘ঐশী পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ছিলেন। এই মাদকে আসক্ত হয়ে তার বাবা-মাকে মেরে ফেলেছেন। এই জায়গা থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। কোনোভাবেই মাদককে বাড়ানো যাবে না। মাদকের বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাড়ির পাশে ডাবের খোসা, পানির পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে সেখানে ডেঙ্গুর মশা জন্ম নিতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সমাবেশে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সামছুল আলম, কেরানীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইমাম, পুরোহিত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক।
