‘নেভার হ্যাভ আই এভার’ সিরিজ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন এখন হলিউডের পরিচিত মুখ। নেটফ্লিক্সের নতুন সিনেমা ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের জায়গায় কাজ করছেন ২৪ বছর বয়সী এই তামিল বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হলিউডে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের অবস্থান, নিজের ক্যারিয়ার ও অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
মৈত্রেয়ীর মতে, গত কয়েক বছরে হলিউডের সিনেমা ও টেলিভিশনে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন কোনো চরিত্রের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে একসময় এমন কিছু চরিত্রও দেখা গেছে, যেগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় দর্শকদের অনেকেই নিজেদের পুরোপুরি মেলাতে পারেননি। মৈত্রেয়ী মনে করেন, সেই চরিত্রগুলোও পরবর্তী সময়ে বাস্তব ও বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্বের পথ তৈরি করেছে।
মৈত্রেয়ী মনে করেন, বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের অনেক সময় লেগেছে। আগের প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়েছে। বড় চরিত্রের সুযোগ তো দূরের কথা, অনেককে পর্দায় ছোটখাটো পার্শ্বচরিত্র পাওয়ার জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাদের সেই লড়াই ও সাফল্যের ধারাবাহিকতাই এখনকার প্রজন্মকে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
‘নেভার হ্যাভ আই এভার’-এর সাফল্যের পর মৈত্রেয়ী তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পান। তবে তার কাছে শুধু পর্দায় দক্ষিণ এশীয় কোনো চরিত্রের উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়। তিনি মনে করেন, সেই চরিত্রের মধ্যে যেন দক্ষিণ এশীয় মানুষের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাও ফুটে ওঠে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই শুধু পর্দায় নিজেদের দেখা যাওয়া নিয়ে সন্তুষ্ট না থেকে নিজেদের গল্প নিজেদের মতো করে বলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের নিজেদের গল্প নিজেদের মতো করে বলার সুযোগও তৈরি করতে হবে। হলিউডে কাজ করা শিল্পীদের সেই জায়গা জোরালোভাবে দাবি করা প্রয়োজন বলেই মনে করেন এই তরুণ অভিনেত্রী।
