নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ মা-বাবাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সম্পত্তি লিখে নেওয়া এবং পরে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের চিকিৎসক ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার, দলিল বাতিল, বাড়ির দখল ফিরে পাওয়া এবং নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মা মোছা. আনোয়ারা বেগম।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার স্বামী ডা. মো. আব্দুর রহমান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডিমেনশিয়া, পারকিনসন, ব্রেইন স্ট্রোক, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না এবং কথা বলতেও পারেন না। এ অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ছেলে ডা. মো. শাহ জালালুর রহমান শাহী, মেয়ে সুরাইয়া জেবীন রিনা ও মেয়ের স্বামী কামাল শিকদারসহ কয়েকজন গত ১০ আগস্ট তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ করেন আনোয়ারা বেগম।
আনোয়ারা বেগমের দাবি, তার ছেলে ডা. মো. শাহ জালালুর রহমান শাহী লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। গত ১০ আগস্ট লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তিনি তার ছোট মেয়ে সুরাইয়া জেবীন রিনা, জামাতা কামাল শিকদার, তাদের পরিচিত বাবু, হান্নান, হান্নানের দুলাভাই ও শ্যালক সজীবসহ কয়েকজনকে নিয়ে তাদের বাড়িতে যান। এ সময় তাদের জোরজবরদস্তি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়িটি লিখে দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে একই উদ্দেশ্যে ছেলে ও তার শাশুড়ির মাধ্যমে তার স্বামীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এতে তার স্বামী ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে দাবি করেন তিনি।
আনোয়ারা বেগম বলেন, তার স্বামীর ইচ্ছা ছিল সহায়-সম্পদের বড় একটি অংশ ট্রাস্টের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় করা। কিন্তু স্বামীর শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে গত ১৬ আগস্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের লোকজন এনে তার টিপসই নিয়ে জোরপূর্বক বাড়িটি দলিল করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনসহ কাউকে জানানো হলে ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও দাবি তার।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে শান্তি কুঞ্জ টাওয়ারে থাকা তাদের বাড়িটি ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাতার দখলে রয়েছে। অন্যদিকে তিনি ও তার অসুস্থ স্বামী বর্তমানে মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
আনোয়ারা বেগম আরও অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী কামাল শিকদার এখনো তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তাদের বাড়ির দারোয়ানকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক লিখে নেওয়া দলিল বাতিলের দাবিতে আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারা বেগম। পুলিশ প্রশাসন একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদের বক্তব্য শুনেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ এবং তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিজেরও হাঁটু ও মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে। এমন অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের।
আনোয়ারা বেগম সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আদালত ও পুলিশের কাছে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জোরপূর্বক লিখে নেওয়া দলিল বাতিল, বাড়ির দখল ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাতার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
