নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোভ্যানচালক কিশোর সবুজ হত্যা মামলায় পলাতক আরেক আসামি প্রমিক মিয়াকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪। এ সময় নিখোঁজ কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার নয়াবাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-১৪-এর সদর কোম্পানি ও সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এবং এসআরবি-৭-এর সিপিসি-৩, চান্দগাঁও, চট্টগ্রামের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে সখীপুর পৌরসভার কলেজ মোড়-মিলপাড় এলাকার বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ (১৪) প্রতিদিনের মতো ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে ভাড়ায় চালাতে বের হয়। এরপর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৫ অক্টোবর এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় মামলা করা হয়।
এর আগে, ১৯ অক্টোবর থেকে চালানো অভিযানে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে এসআরবি। ওই সময় মামলার আসামি হাবিব (৩৫) ও শাহীনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সখীপুরের বহেরাতৈল এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে সবুজের পরিহিত শার্ট, স্যান্ডেল এবং মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয় বলে জানায় এসআরবি।
এসআরবি আরও জানায়, ২১ অক্টোবর নেত্রকোনার মদন এলাকা থেকে সবুজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ফোনের তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমিক মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের হালিশহরের নয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রমিক জানিয়েছেন, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবুজকে অপহরণ করে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা। মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে গভীর জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়েছিল বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার প্রমিক মিয়াকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
