শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
Homeসংবাদঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার বনাম বাস্তবতা

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার বনাম বাস্তবতা

ঢাকা’র পূর্বাণী হোটেলে হয়ে গেলো ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা। অবশ্য এর আগে বেশ কয়েকবার ইশতেহার ঘোষণার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেও তা স্থগিত করে তারা। বিএনপির সাথে বোঝাপড়া নিয়ে ভেতরে ভেতরে যে বিরোধের আগুন বাড়ছিলো, তা বুঝতে বেগ পেতে হয়নি গণমাধ্যমকর্মীদের।

জানা যায়, বিএনপি কোনোভাবেই চাচ্ছিলো না, ঐক্যফ্রন্ট আলাদাভাবে ইশতেহার ঘোষণা করুক। না চাওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা জোড়াতালির এ জোটে বহু ইস্যু এখনো অমীমাংসিত। তাই বিএনপির চাওয়া ছিল ঐক্যফ্রন্ট যেন আলাদা ইশতেহার না দেয়। এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে ঐক্যফ্রন্টকে প্রস্তাব দেয়া হয় যে, বিএনপির ইশতেহারই হবে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার।

তবে চাওয়া থেকে পাওয়া হয়নি বিএনপির। দলটির আগেই ইশতেহার ঘোষণা করে ঐক্যফ্রন্ট। এ ইস্যু ও আগের সব ইস্যু মিলিয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ঐক্যফ্রন্টের সাথে বিএনপির জোট।

এ তো গেলো জোটের কথা, কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার দেশবাসীর জন্য যেন বিপদ সঙ্কেত হয়ে এসেছে। অবাস্তব ও হাস্যকর সব প্রতিশ্রুতিতে ঠাসা ইশতেহার বিনোদনে নতুন মাত্রাও যোগ করেছে। চলুন ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার বিশ্লেষণ করা যাকঃ

১। ইশতেহারে বলা হয়েছে, প্রতিহিংসার রাজনীতি দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে কি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপির কার্যকলাপ অনুকরণ করবে তারা!

২।  যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা। যারা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে, মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের বিষয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি অবশ্যই সতর্ক আছে। এটা তাদের ভূতের মুখে রাম নাম ছাড়া কিছুই না।

৩। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ইশতেহারের আরেকটি অঙ্গীকার। তাই প্রশ্ন উঠেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে কি সরকারের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ মিথ্যাচার! নিজের মুখোশ খুলে গেলে সাংবাদিকদের ‘খামোশ’ বলে ধমক দেয়া? নাগরিকদের নিরাপত্তা কি ৬৩ জেলায় বোমা হামলা করে দেয়া হবে? এবার ‘বোমা নেটওয়ার্কের’ আওতায় অবশিষ্ট জেলাটিও আসবে তো?

৪।  নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে কি শিশু অথবা পাগলই পাবেন নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব!

৫. পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারার বাধ্যবাধকতা রাখতে চায় ঐক্যফ্রন্ট। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনীতির কফিনে শেষ কফিন মারতে চাচ্ছে তারা।

অচল কামাল হতে চান প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশের চাকা সচল থাকবে তো!

৬. প্রথম বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে না বলেও ঘোষণা করেছে তারা। অথচ মানুষের আয় বাড়ার সাথে সাথে নাগরিক সুবিধার মূল্য বাড়ানো হয়। নয়তো সরকারকে মোটা অঙ্কের ভর্তুকির বোঝা টানতে হয়। আর জনমতের উপর ভিত্তি করে এসব সেবার মূল্য বাড়িয়ে তা দিয়ে এ খাতের উন্নয়ন করা হয়। গত ১০ বছরে বিদ্যুত খাতে অকল্পনীয় সাফল্য এর প্রমাণ।
মূল্য না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে তো তারা?

৭. সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ছাড়া আর কোনো কোটা থাকবে না বলেও প্রতিশ্রুতি তাদের। অথচ এরাই মুক্তিযুদ্ধের কথা বলার চেষ্টা করে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনাই কি করছেন তারা!

৮. ড. কামাল কি এই বয়সে এসে সরকারি চাকুরিতে প্রবেশ করতে চাইছেন? অন্তত তাদের ইশতেহার দেখে এমনটিই প্রতীয়মান হয়।
নয়তো ঐক্যফ্রন্ট কেন বলছে, পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য কোনও বয়সসীমা থাকবে না। সব কর্মকর্তা-কর্মচারী আজীবন চাকুরির সুযোগ পেলে নতুনেরা আসবে কোথায়!

আদতে, এ ইশতেহার জাতির সাথে প্রতারণার নতুন এক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। ‘হামবড়া’ ভাবের এসব পাকিপ্রেমী সুশীলেরা চাইছেন যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা দখল করতে। এরপরেই শুরু হবে তাদের কুকর্মের মিশন।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular