বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলামির্জাপুরকরোনা ঝুঁকিতেও সেবা দিচ্ছে মির্জাপুরের চিকিৎসক-স্বাস্থ্য সহকারীরা

করোনা ঝুঁকিতেও সেবা দিচ্ছে মির্জাপুরের চিকিৎসক-স্বাস্থ্য সহকারীরা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: করোনা ভাইরাস দুর্যোগের সময় ঝুঁকির মুহূর্তে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন টাঙ্গাইল মির্জাপুরের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে তথ্য সংগ্রহে একযোগে কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার ও স্বাস্থ্য সহকারীগন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। চলমান এই ঝুঁকির মধ্যেও নিরলস ভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সরকারী হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র এবং কুমুদিনী হাসপাতালে এ সেবা কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কয়েকটি কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও কুমুদিনী হাসপাতাল গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন। মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেছেন, আমরা যারা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী এ পেশায় রয়েছি সব কিছু জেনেই এসেছি। যে কোন দুর্যোগের সময় মানুষের সেবা প্রদান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। ভয় পেলে চলছে না। কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী ও হেলথ প্রোভাইডারগন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ঝুঁকির মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এ সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলার ২৩১ টি গ্রাম, একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার লোকের বসবাস। একটি সরকারি হাসপাতাল, ৯ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র এবং কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৫৪ টি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ক্রমে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও স্বাস্থ্য সহকারীরা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলিতে ৩০ প্রকার ঔষধ দিয়ে দুর্যোগ মুহূর্তে জ্বর, সর্দি, কাশি, ব্যথা, গর্ভ জনিতসহ বিভিন্ন রোগের উপসর্গ নিয়ে অসহায় গরীব রোগীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

বিদেশ ফেরত, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন আগত লোকজনদের মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ আছে কি না তা উপজেলা মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে নমুনা ও তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করতেছেন। সরকারী হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোগীদের জন্য আলহাজ্ব শফিউদ্দিন মিঞা এন্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। এখানে রয়েছে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা।

এদিকে করোনা ভাইরাস দুর্যোগের সময় নিরলস ভাবে চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছেন কুমুদিনী হাসপাতাল। এখানেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা নিয়মিত রোগীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন বলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় জানিয়েছেন।

ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি কামরুন্নাহার বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ক্রমে আমরা নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ক্লিনিকে ৩০ প্রকারের ঔষধ রয়েছে। এখানে করোনা ভাইরাস উপশম রোগের নমুনা সংগ্রহ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, জ্বর , প্রেসার মাপা, গর্ভ জনিত নমুনা পরীক্ষাসহ বিভিন্ন রোগের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বিষয়ে সতর্কীকরণ উপদেশ দেওয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, সরকারি হাসপাতাল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, কুমুদিনী হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী ও হেলথ প্রোভাইডারগন রোগীদের ঝুঁকির মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এ সেবা কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular