সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
Homeজাতীয়কলঙ্ক নিতে চায় না ইসি, যাদের জন্য আসছে কড়া নির্দেশনা

কলঙ্ক নিতে চায় না ইসি, যাদের জন্য আসছে কড়া নির্দেশনা

অনলাইন থেকে: আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো রকম বিতর্কের জন্ম হোক এমনটা চায় না বর্তমান কমিশন। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে যে সমালোচনা হয়েছে সেটিকে মাথায় রেখে আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনা করতে চায় বর্তমান কমিশন। সেই লক্ষে মাঠ প্রশাসনের বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আগামী ৮ অক্টোবর মতবিনিময় সভা ডেকেছে ইসি। সেই সভায় ডিসি ও এসপিদের বক্তব্য ও মতামত শুনবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনাররা। পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল মাঠ প্রশাসনের এই পদস্থ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তাও দিতে চান।

গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচন নিয়ে কোন পক্ষই যেন বিতর্ক তুলতে না পারে সে বিষয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থানের কথাও তাদের জানিয়ে দেবেন সিইসি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এবং একাধিক নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে যা যা করণীয় সবই করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারগণ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের কড়া বার্তা দেবেন। পুলিশের সহায়তায় বিশেষ কোনো দল নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছেন এমন কলঙ্ক আগামী নির্বাচনে দেখতে চান না প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কি পরামর্শ রয়েছে সেই বিষয়ে তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চাইবে কমিশন। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এরই মধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের রোড ম্যাপ অনুযায়ী ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ‌২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হবে নির্বাচনের সময়কাল। বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হতে পারে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেন, সকল প্রকার নির্বাচন পরিচালনায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও সামনে জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন আছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কমিশন মাঠের রিপোর্ট বুঝতে চায়। জেলা পর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের চ্যালেঞ্জগুলো জানতে চায়।

এ কারণে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনসহ সকল প্রকার নির্বাচন দক্ষতার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সকল দলের অংশ গ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সাথে মতবিনিময়, সমন্নয় সাধন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করাই হবে এই আলোচনার উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা করতে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো উত্তরণের পথ বের করতে মতবিনিময় করবে কমিশন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে অনেক সমস্যার সমাধান করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আমরা চাই নির্বাচনে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে এবং আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে। তাই আমরা যদি সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটু আগে থেকে সব স্তরে কাজ শুরু করি এবং নজরদারি রাখতে পারি তাহলে নির্বাচন পরিচালনায় সাফল্য নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular