ঈদের সময় সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু এখন ঈদ ছাড়াই কেন পণ্যের দাম বাড়ছে—এ প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে এসব পণ্যের দামও কমে আসবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে আগামী ১৯ মার্চ ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের সময় জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, কিন্তু এখন বাড়ছে কেন? আসতে চাঁদা, যাইতে চাঁদা।’ তার মতে, বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে। তাই নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি।
তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। একদিকে পণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষক ও সাধারণ মানুষ নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ছেন। চাঁদাবাজি বন্ধ হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে এবং এর সুফল বাজারেও পড়বে।
কৃষকদের সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সার গুদামে রয়েছে, কিন্তু কৃষক তা পাচ্ছেন না। অথচ পতিত সরকারের নেতার বাসায় সার পাওয়া যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সরকার থাকে কোথায়?’
কৃষি উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ১৪ থেকে ১৬ বছরে গোয়েন্দা বাহিনী কোথায় কী বৈঠক হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে পারত। এখন তারা কেন পারছে না—এ প্রশ্নেরও জবাব প্রয়োজন। নাকি তাদের এসব বিষয়ে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন রাখেন।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে আজহারুল ইসলাম বলেন, বিএনপি গণভোটের শপথ না নিয়ে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে বারবার জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। এমনকি এ দাবিতে সংসদ থেকে ওয়াক আউটও করেছে। কিন্তু সরকার এসব দাবি আমলে নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, সংসদে দাবি জানানোর পরও যখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তখন বাধ্য হয়েই তারা রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি আদায়ে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আজহারুল ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল। এ সময়ে দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে এবং কারাগারে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পতনের মাত্র দুই দিন আগে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যাদের নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করা হতো, শেষ পর্যন্ত তাদেরই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জনগণ বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগরী আমির আবিদুর রহমান সোহেল, সিরাজগঞ্জ জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা শাহিনুর আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, পাবনা জেলা নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিরাজগঞ্জ জেলা আমির মুফতি আব্দুর রউফ এবং এনসিপি সিরাজগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
