সোমবার, মে ১১, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস আজ

টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক: ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে টাঙ্গাইলকে মুক্ত করেন। বাংলাদেশের সর্বাধিক সম্মুখযুদ্ধ করতে হয় এই জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের। এই জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় গণকবরসহ নানা স্মৃতি রয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পর পরই দেশ শত্রুমুক্ত করতে টাঙ্গাইলে গঠন করা হয় স্বাধীন বাংলা গণমুক্তি পরিষদ। চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ। ২৭ মার্চ বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় টাঙ্গাইলের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ওই দিন রাতেই সার্কিট হাউজ আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। ৩ এপ্রিল ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে প্রবেশকালে মির্জাপুর উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচড়া নামক স্থানে ইপিআর ও মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সেদিনের প্রতিরোধ যুদ্ধে ২৩ জন পাকসেনা নিহত হয়। যুদ্ধে ১৬ ইপিআর সদস্য, জুমারত আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিকসহ ৮-১০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এরপর স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় ওই গ্রামে ঘর-বাড়ি আগুন লাগিয়ে শতাধিক গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে পাকবাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নামে গড়ে তোলে বিশাল কাদেরিয়া বাহিনী। টাঙ্গাইলের সখীপুরে বহেড়াতৈল পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠে বিশাল ট্রেনিং ক্যাম্প। এখান থেকেই ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সমস্ত টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে হানাদারবাহিনীদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। বাহিনীর বেসামরিক প্রধান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম শহীদ, প্রশাসক ছিলেন আবু মো. এনায়েত করিম এবং সহকারী বেসামরিক প্রধান ছিলেন হামিদুল হক বীর প্রতিক।

৯ আগস্ট ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে সিরাজকান্দি ঘাটে হানাদারদের সাতটি জাহাজ বিপুল গোলাবারুদসহ নোঙ্গর করে। ১১ আগস্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার হাবিবের নেতৃত্বে মর্টাল শেল, রকেট শেল ছুড়ে জাহাজগুলোতে আক্রমণ করা হয়। পরে এ জাহাজগুলো বালুর চরে আটকা পরে। জাহাজ থেকে ২০ হাজার বাক্সে নানা ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা এসব অস্ত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে বিশাল অস্ত্রভান্ডার গড়ে তোলে।

১০ ডিসেম্বর সকালে জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে হানাদারবাহিনীর বিশাল বহর টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিকেলে টাঙ্গাইলের পৌলি এলাকায় ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালালে সেখানে শতাধিক হানাদার নিহত হয়। হানাদারদের পালানোর সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।

১১ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাকসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধারা টাঙ্গাইল পুরোনো শহরে প্রবেশ করে। সন্ধ্যায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কাছে আত্মসমর্পন করার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল মুক্ত হয়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular