নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আটিয়া মামুদপুর গ্রামের হালিম বয়াতি (৫০)জন্ম থেকে অন্ধ । অন্ধ বয়াতি হিসেবে তার পরিচিতিও আছে উপজেলা জুড়ে। বিভিন্ন সময় গান করেন বিভিন্ন স্থানে, হাটে বাজারে। এতে মানুষ যা দেয় তা দিয়েই সংসার চলে। সংসারে দুই ছেলে।বড় ছেলে করে কাঠ মিস্ত্রির কাজ আর ছোট ছেলে কলেজের বারান্দায় পা দিলেও আর্থিক দৈন্যতায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। হালিম বয়াতির সাগরেত বা সহযোগী জাহাঙ্গীর আলম তার সাথে আছেন ৮ বৎসর যাবৎ। গান গেয়ে যে আয় হয় আধা আধা ভাগ করে নেন দুজনে।
খন্জরি আর ঢোলের তালে রিক্সাযোগে সেই অন্ধ হালিম বয়াতিকে দেখা গেল গানে গানে নৌকার ভোট চাইতে। “আকাশেতে লক্ষ তাঁরা একাব্বর ভাই সবার সেরা”। এভাবেই নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব একাব্বর হোসেনের পক্ষে গানে গানে নৌকার প্রচারণা ও একাব্বর বন্দনা করছিলেন অন্দ হালিম বয়াতি। উৎসুক জনতা তার গান শুনছিল।
সবার মতো আমারো ধারনা ছিল আওয়ামীলীগ থেকে তাকে নৌকার প্রচারণার জন্য ঠিক করা হয়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, প্রতিদিন কত করে পান? উত্তরে হাসিমুখে হালিম বয়াতি বললো- ১৮ দিন ধইরা বিভিন্ন জায়গায় গান গাইতাছি, নৌকার গান, কারও সাথে চুক্তি করিনাই, টেকা কেউ দেয়ওনাই টেকা নেইও নাই। একজন খুশি হইয়া ৫শ টেকা দিছিল।
জিজ্ঞেস করলাম রিকশা নিয়ে গান করছেন ভাড়া দিবে কে? উত্তরে বয়াতি বললো- এই কয়দিন বাজারে বাজারে বইসা গান করছি আইজি প্রথম রিক্সা নিয়া বাইর অইছি, রিক্সা ওয়ালার লগেও কোন চুক্তি করিনাই দেহি কি হয়!
