টাঙ্গাইলে ক্ষমা প্রার্থনা করে দলে ফিরলেন…

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভবিষ্যতে দলের স্বার্থ পরিপন্থী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে অব্যাহতিপ্রাপ্ত টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক একজন চেয়ারম্যানকে ক্ষমা করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে তাদের ক্ষমা করার বিষয়টি জানানো হয়।

ক্ষমাপ্রাপ্তরা হলেন, জেলা আওয়ামী আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, কালিহাতী উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী , টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম এবং বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তারা। দু’-একজনকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরাসরি মদদ ও সহযোগিতা করেন। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ছাড়া অপর তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। এ ঘটনায় দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের মূলস্রোত ধাক্কা খায়। ফলে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি ওঠে।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তক্রমে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ওই চারজনকে দলের সকল পদ ও দলীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ক্ষমাপ্রাপ্তির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের স্বার্থ আদর্শ শৃঙ্খলা, তথা গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র পরিপন্থী সম্পৃক্ততার জন্য ইতিপূর্বে ওই চারজনকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তারা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছন। দোষ স্বীকার করে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আর যুক্ত না হওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি থেকে জেলা আওয়ামী লীগে স্থান পেয়েছিলাম। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে যেতে চাই। দলের আদর্শ নীতি মেনেই ভবিষতে পথ চলবো। আমাকে ক্ষমা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছিলাম। অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ক্ষমা করেছে। আমি কৃতজ্ঞ ও খুশি।

অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, সারাজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। গত উপজেলা নির্বাচনে কর্মীদের অনুরোধ আর আমার আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি অনুতপ্ত। কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।

ক্ষমাপ্রাপ্তদের অনুসারিরা বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন। যাতে তারা ভবিষতে আর কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটনা ঘটানোর সাহস না পান।

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর