মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে গাইড বই বিক্রি করতে মাদরাসা শিক্ষক সমিতির কোম্পানির সাথে ১৪ লাখ...

টাঙ্গাইলে গাইড বই বিক্রি করতে মাদরাসা শিক্ষক সমিতির কোম্পানির সাথে ১৪ লাখ টাকা চুক্তি! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইড বই কোম্পানির কাছে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নতুন বছরের বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোর্ড বই আসার আগেই গাইড (সহায়ক) বই বাজারজাত করতে কোম্পানীর সাথে ১৪ লাখ টাকা চুক্তি করেছে উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতি। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণি হতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে গাইড বই বিক্রি করতে বাজারজাত করবে আল ফাতাহ পাবলিকেশন্স নামে একটি গাইড বই কোম্পানি।

এরফলে বাজারমূল্য থেকে বেশি দামে শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই বা গাইড বই কিনতে হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার কর্মকর্তারা কোম্পানীর কাছ থেকে এই টাকা গ্রহণ করেছেন। এতে করে শিক্ষার্থীদের ওই কোম্পানি গাইড কিনতে বাধ্য করছেন মাদরাসা সমিতির শিক্ষকরা।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের হাতে গাইড বই তুলে দিতে আল ফাতাহ পাবলিকেশন্সের সাথে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী গাইড বই কোম্পানীটি গত ১১ ডিসেম্বর ভূঞাপুর স্কাউট অফিসে মাদরাসা শিক্ষক সমিতির নেতাদের হাতে ১৪ লাখ টাকা তুলে দেয়। পরে সেই টাকা থেকে ৯লাখ ৫০ হাজার টাকা সমিতির সোনালী ব্যাংকের হিসাব নম্বরে (৬০০৩০০২১৬৯৪০৭) জমা দেওয়া হয়।

এর আগের বছর মাদরাসা সমিতি লেকচার পাবলিকেশন্সের সাথে গাইড বই বাজারজাত করতে ৭ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানীটি ২লাখ টাকা দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা গাইড বই না কেনায় বাকী ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি কোম্পানীটি। ফলে নতুন বছরে লেকচার কোম্পানীর সাথে দর কষাকষি না হওয়ায় সমিতির নেতারা আল ফাতাহ পাবলিকেশন্সের সাথে চুক্তি করেছেন।

এ বিষয়ে আল ফাতাহ পাবলিকেশন্সের ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম বলেন, গাইড বই বাজারজাতের বিষয়ে মাদরাসা সমিতির শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন। মোবাইলে এই বিষয়ে কিছু বলার নেই।

লেকচার পাবলিকেশন্সের ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি রিপন জানান, গত বছরের চুক্তি হয়েছিল ঠিকই কিন্তু এ বছর কেন চুক্তি করেনি সেটা শিক্ষক সমিতির নেতারাই বলতে পারবেন। এই বিষয়ে মোবাইলে বলা সম্ভব না, আপনিতো বুঝেন বিষয়টি।

এদিকে, শিক্ষার্থীরা জানান- নতুন বইছরের বোর্ড বই এখনো আমরা হাতে পাইনি। এরমধ্যেই স্যারেরা আল ফাতাহ কোম্পানির গাইড বই কেনার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছেন। গত বছরও এমনটা করেছিল। তবে, অনেকে তাদের কথা মতো গাইড বই কিনেনি। তাদের কথা মতো তাদের পছন্দের কোম্পানি বই কিনতে জিম্মি করে। সেই গাইড বই না কিনলে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া কথা বলে। পরে বাধ্য হয়েই সেই কোম্পানি বই কিনতে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একাধিক মাদরাসা শিক্ষকরা বলেন, বোর্ড বই এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেনি। সেইখানে আগেই গাইড বই বাজারে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের দেওয়া ওই টাকা গাইড বইয়ের মূল্যে যুক্ত হয়ে কোম্পানি বই বাজারে ছাড়বে। এতে বেশি দামে গাইড বই কিনতে হবে শিক্ষার্থীদের।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর শাখার সাধারন সম্পাদক ও বিলচাপড়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাজহারুল ইসলাম তালুকদারের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বিষয়ে মোবাইলে বলা যাবে না। সামনাসামনি কথা বলবোনি।

বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদার্রেছীন ভূঞাপুর শাখার সভাপতি ও দাখিল মাদরাসার সুপার আফসার উদ্দিন বলেন, কোন কোম্পানীর সাথে চুক্তি হয়নি। মাদরাসার কিছু শিক্ষক ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। সমিতির হিসাব নম্বরে একদিনে ৯ লাখ ৫০ টাকা জমা হল কিভাবে প্রশ্নে তিনি বলেন, শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা জমা হয়েছে।

ভূঞাপুর ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান বলেন, আল ফাতাহ গাইড বই কোম্পানীর কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে মাদরাসা সমিতির হিসাব নম্বরে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বাকী টাকা কি হয়েছে সেটা সমিতির নেতারাই ভালো জানেন। এ ঘটনাটি উপজেলাজুড়ে আলোচিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ পপি খাতুন বলেন, গাইড বই কোম্পানীর সাথে মাদরাসা সমিতি যদি টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে থাকে তাহলে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular