নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে কলার চাষ। কম খরচে তুলনামূলক ভালো ফলন ও মুনাফা পাওয়ায় প্রতিবছরই নতুন নতুন কৃষক এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অনাবাদি পাহাড়ি জমি ও যমুনার চরাঞ্চলের পলিমাটিতেও গড়ে উঠছে অমৃতসাগর, মেহেরসাগর, চাম্পা ও সবরি জাতের কলার বাগান।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় কম-বেশি কলার চাষ হলেও মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি এলাকা এবং ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতীর চরাঞ্চলে উৎপাদন বেশি। জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার চাষ হচ্ছে। উৎপাদিত কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন নদী ও সড়কপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে। ঢাকার কলার চাহিদার একটি বড় অংশ মেটায় মধুপুরের মেহেরসাগর কলা।
ঘাটাইলের জোড়দিঘী এলাকার চাষি রহমত আলী জানান, প্রতি ছড়িতে জমির লিজসহ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়। বিক্রির সময় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে গাছের ক্ষতি, উৎপাদন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করলে প্রকৃত লাভ কিছুটা কমে আসে।
কলা চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি কলা চাষ করছেন। বর্তমানে তিন একর জমিতে বাগান রয়েছে এবং এ বছর আরও চার একর জমিতে চাষ বাড়াচ্ছেন। তার মতে, কলা চাষ এখনো লাভজনক হলেও সিগাটোকা রোগের আক্রমণে কখনো কখনো ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, কৃষকদের উন্নত জাতের কলা চাষে উৎসাহিত করতে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন সহায়তামূলক প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। পানামা বা সিগাটোকা রোগের প্রকোপ দেখা দিলে ক্ষতি কমাতে কৃষকদের পেঁপে, আখ ও তরমুজ চাষের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
তবে সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে অনেক সময় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও হিমাগার স্থাপন করা গেলে কলা চাষ আরও লাভজনক হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও টাঙ্গাইলের কলা রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
