বুধবার, মে ৬, ২০২৬
Homeলাইফ স্টাইলপাঁচ ধরনের আগুন, জানেন তো কোনটা কীভাবে নেভাবেন?

পাঁচ ধরনের আগুন, জানেন তো কোনটা কীভাবে নেভাবেন?

আগুন বিভিন্ন কারণে লাগতে পারে। সেই আগুনের ধরন জেনে তারপর আগুন নেভানো উচিত। ফায়ার সার্ভিস থেকে বলছে আগুনের পাঁচটি ধরন রয়েছে।

আগুন ধরলে প্রাথমিকভাবে বুঝতে হবে আগুনের ধরন কেমন, তারপর সেই অনুযায়ী আগুন নেভানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

যে কোনো আগুন ধরতে দাহ্য-বস্তু বা জ্বালানি, অক্সিজেন এবং তাপ লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এই তিনটি উপকরণের যেকোন একটি সরিয়ে ফেললে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এক এক ধরনের আগুন নেভানোর জন্য এক এক ধরনের কৌশল নিতে হয়।

 

আগুনের বিভিন্ন ধরনকে ৫ ভাগে ভাগ করেছে দমকল বাহিনী। আসুন ভাগগুলো সম্পর্কে জেনে নেই-

১. পুড়ে ছাই বা কয়লা হয়ে যায় এমন আগুন
২. তেলের আগুন
৩. গ্যাসের আগুন
৪. ধাতব পদার্থের আগুন
৫. ইলেকট্রিক আগুন

যে আগুন যেভাবে নেভাবেন:

পুড়ে ছাই বা কয়লা হয় এমন আগুন:

এই আগুনের সূত্রপাত সাধারণত হয় চুলা থেকে। বাংলাদেশে কাঠ, কয়লা দিয়ে যেসব চুলা জ্বালানো হয় সেখান থেকে এই আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ধরনের আগুন নেভানোর জন্য পানি, শুকনো বালি এবং ভেজা বস্তা দিয়ে নেভাতে হবে।

তেলের আগুন:

কোন অগ্নিকাণ্ড যদি তেল থেকে হয় তাহলে সেটা নেভাতে ফোম ব্যবহার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস বলছে কেমিক্যাল মিশ্রিত ফোম এক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী। তবে এটা সময়সাপেক্ষ। তাই ভেজা বস্তা বা কাঁথা দিয়ে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

গ্যাস থেকে আগুন:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস থেকে আগুন ধরলে প্রথমেই চেষ্টা করতে হবে গ্যাসের লাইন বন্ধ করার জন্য। এর পর বস্তা বা পানি দিয়ে বাড়ি দিতে হবে। এতে করে বাতাস বন্ধ হয়ে যাবে।

ধাতব পদার্থের আগুন:

ধাতব পদার্থের আগুন নেভাতে পানি দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে শুকনা বালি দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেহেতু আগুন ধরতে দাহ্য-বস্তু বা জ্বালানি, অক্সিজেন এবং তাপ লাগে – তাই ধাতব পদার্থের আগুন থেকে তাপ সরিয়ে ফেললে আগুন নেভানো সহজ হবে।

বৈদ্যুতিক গোলযোগের আগুন:

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট বা গোলযোগ থেকে আগুন ধরলে কখনোই সেই আগুন নেভাতে পানি দেয়া যাবে না। এতে করে যে ব্যক্তি পানি দেবেন তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবেন। এখানে অনেকে ভুলভাবে পানি দেন। পানি দেয়া যাবে ছুড়ে বা কাটা কাটা ভাবে। যাতে করে আপনার সাথে পানির কোন ছোঁয়া না থাকে অর্থাৎ পানি থেকে আপনাকে বিযুক্ত থাকতে হবে। এই আগুন নেভানোর জন্য কার্বন ডাই অক্সাইড দরকার হয়। এক্ষেত্রে এবিসিই ড্রাই পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সবার আগে ইলেকট্রিসিটির লাইনটা বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে।

রাসায়নিক থেকে সৃষ্ট আগুন:

ফায়ার সার্ভিস বলছে, রাসায়নিকের মধ্যে নানা রকমের উপাদান রয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিসকে ঘটনাস্থলে যেয়ে পর্যবেক্ষণ করে পদ্ধতি বের করে সেই আগুন খুব সতর্কতার সঙ্গে নেভাতে হয়। প্রাথমিকভাবে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস এবং কুয়াশা আকারে পানি দিয়ে নেভানো যায়। তবে এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সাহায্য নিতে হবে।

সবশেষে যেকোন আগুনের ঘটনায় সবার আগে ফায়ার সার্ভিসকে ডাকতে হবে বলে পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবেই আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular