স্তন ক্যান্সার
সারা পৃথিবীতে অক্টোবর মাস স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হয় এবং সারা পৃথিবীতে স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করতে পারলে প্রায় শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে রোগ সম্পূর্ন নির্মূল করা সম্ভব।
বংশগত ও জিনেটিক মিউচেশনের কারণে স্তন ক্যান্সারের ঝঁকি বৃদ্ধি পায়।যেমন: বি আর সি-১, বি আর সি-২ । যে সব নারীর জিনে এই সকল জিনেটিক মিউটেশন সনাক্ত করা যায় তারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন বলে বিবেচনা করা হয়।
কারণ :
১. স্তন ক্যান্সারের সঠিক কারণ এখনও আমরা জানি না
২. এস্টোজেন হরমোনের কারণে এ রোগ বেশি হয়
৩. খুব তাড়াতাড়ি মাসিক শুরু হওয়া বা খুব
৪. বেশি বয়সে ৫০ বা ৫৫ বছর বয়সে মাসিক বন্ধ না হওয়া
৫. ৩০ বছরে প্রথম মা হওয়া
৬. গর্ভধারণ না করা
৭. ঔষধ:জন্মবিরতীকরণ বড়ি খাওয়া
৮. বাহির থেকে এস্টোজেন হরমোন ঔষধ গ্রহন করা
৯. শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া
১০. মদ পান করা।
সর্তকতা মূলক লক্ষণ:
১. গর্ভাবস্থা ,মাসিকের সময় বা দুগ্ধ দানের সময় ছাড়া ব্যথামুক্ত বা ব্যথাযুক্ত
স্তনে ও বগলে চাকা বা গোটা (সাধারণত শক্ত চাকা )
২. স্তনের রং পরিবর্তন হওয়া ( লাল আভা )
৩. স্তনের চামড়া কুচকে যাওয়া বা কমলা লেবুর খোসার মত আকৃতি ধারণ করা
৪. স্তনের আকার পরিবর্তন হওয়া
৫. স্তনের বোটা ভীতরের দিকে ঢুকে যাওয়া,বোটায় অস্বাভাবিক চুলকানি,স্তনের বোটা থেকে রক্তের মত বা রসনির্গত হওয়া।
প্রতিরোধ :
১. কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর হার কমিয়ে আনা সম্ভব।
ক্স প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার, খেজুর এবং সবুজ শাক-সবজি ও ফলমুল খেতে হবে
ক্স প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট বেয়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে
ক্স প্রতি মাসে মাসিক শেষ হওয়ার পর নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা জরুরী এবং বছরে একবার ডাক্তারের কাছে স্তন পরীক্ষা করা উচিৎ
২.নেশা জাতীয় জিনিস যেমন ধুমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে
৩.বাচ্চাকে অবশ্যই মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।
দ্রæত সনাক্তকরণ পরীক্ষা : আল্ট্রাসোনোগ্রাম, মেমোগ্রাম , এফ এন এ সি (ঋঘঅঈ),ী-ৎধু
(৪০বছরের আগে মেমোগ্রাম নয়, শুধু আল্ট্রাসোনোগ্রাম, এবং ৪০ – ৪৪ বছরে তিন বছর পর এক বার মেমোগ্রাম/ী-জধু টেস্ট করে স্তন পরীক্ষ করা উচিত। ৪৫-৫৪ বছরে এক বছর পর পর মেমোগ্রাম টেস্ট করে স্তন পরীক্ষ করা উচিত। ৫৫ বছরের পর প্রতি ২ বছর পর পর মেমোগ্রাম টেস্ট করে স্তন পরীক্ষ করা উচিত)।
চিকিৎসা : দ্রুত সানাক্ত করেেত পারলে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা করা সহজ হয়। সার্জারি বা শাল্য চিকিৎসা বা অস্ত্রোপাচার, রেডিওথ্যারাপি এবং কেমোথ্যারাপি, হরমোন থ্যারাপি ইত্যাদি ।
নোট : প্রতি মাসে মাসিক শেষ হওয়ার পর নিজে নিজে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তন পরীক্ষা করা জরুরী
সারা পৃথিবীতে ২০২০ সালে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন রোগী সনাক্ত হয়েছে এবং তার মধে ৫৬,০০০ জনসাধারণ স্তন ক্যান্সরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন । উন্নত ও অনুন্নত উভয় দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের হার দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রধান কারণ জীবন যাত্রার মান উন্নায়ন, নগরায়ন ও পাশ্চাত্যের জীবন যাত্রা গ্রহণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যে কোন ক্যান্সারে আক্রমণের ঝঁকি বেড়ে যায়। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একজন নারীর যখন বয়স বাড়ে তখন তার স্তন ক্যান্সারে আক্রমণের ঝঁকি বেড়ে যায়। তবে নারী ও পুরুষ উভয়ই এ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে যদিও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম।
ডা.রুনা লায়লা এম বি বি এস , এম পি এইচ, সি এম ইউ
ডি এম ইউ-ইউ এস জি পি জি টি- গাইনী ও অবস্,সিসিডি- বাডেম
কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান
