নিউজ ডেস্ক: গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সার্চ সেবা ‘Google AI Overview’-এর ভুলে ডিজিটাল পরিচয় বিকৃতির অভিযোগ তুলে প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খায়রুল ইসলাম মাহি নামে এক শিক্ষক। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
খায়রুল ইসলাম মাহি টাঙ্গাইল সদরের বুলবুল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের সাবেক শিক্ষক। তাঁর অভিযোগ, গুগলে ‘Khayrul Islam Mahi’ নামে অনুসন্ধান করলে তাঁর নাম, শিক্ষক পরিচয় ও বিদ্যালয়ের তথ্য সঠিকভাবে প্রদর্শিত হলেও প্রোফাইল ছবির জায়গায় অন্য একজন ব্যক্তির ছবি দেখানো হচ্ছে।
অভিযোগকারী জানান, গুগলে প্রদর্শিত ছবিটি গাজীপুরের তৈরুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. খায়রুল ইসলামের। ফলে একই নামের দুই ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং এতে তিনি সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
খায়রুল ইসলাম মাহির দাবি, বিষয়টি সংশোধনের জন্য তিনি গত কয়েক সপ্তাহে গুগলের অফিশিয়াল ফিডব্যাক সিস্টেম, সাপোর্ট টিম ও আইনি বিভাগে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। এ সময় সরকারি শিক্ষক পোর্টাল ‘শিক্ষক বাতায়ন’-এ থাকা তাঁর প্রকৃত প্রোফাইলসহ বিভিন্ন প্রমাণও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গুগল কর্তৃপক্ষ তাঁর অভিযোগের জন্য একটি কেস নম্বর দেওয়ার পর বিষয়টি রিভিউ কিউতে রাখলেও এখনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এ অবস্থায় ভবিষ্যতে পরিচয় নিয়ে কোনো আইনি বা সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে আশঙ্কায় তিনি টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে বলে জানান অভিযোগকারী।
খায়রুল ইসলাম মাহি বলেন, গুগলের এআই প্রযুক্তির ভুলের কারণে তিনি প্রতিদিন সামাজিক ও পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। নিজের প্রকৃত পরিচয়ের প্রমাণ থাকার পরও বিষয়টি সংশোধন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
অভিযোগকারী জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে আইনি ও কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যেতে পারে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রমাণ হিসেবে গুগল সার্চের কয়েকটি স্ক্রিনশট এবং থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান খায়রুল ইসলাম মাহি।
