কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাগলাহাটে পরকীয়া প্রেম করায় গৃহবধুর স্বামীর বাড়ির লোকজনসহ স্থানীয় লোকজন স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে ধোলাই দিয়েছে।
জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ছাটগোপালপুর গ্রামের মৃত ডা. সিরাজুল ইসলামের পুত্র পল্লী চিকিৎসক জিন্নাহ (৩০) এর সঙ্গে তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাটগোপালপুর গ্রামের ১ সন্তানের জননী এক গৃহবধুর প্রায় ২/৩ বছর পুর্বে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে ঐ গৃহবধু পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে বিষয়টি স্বামীর বাড়ির লোকজন জানার পর গোপনে ঐ গৃহবধুকে কয়েকবার শাসন করে।
শশুড়বাড়ির শাসন না মেনে উল্টো স্বামীর সংসার করবেনা মর্মে বাবার বাড়িতে চলে যায়। এদিকে দীর্ঘদিন বাবার বাড়িতে অবস্থান নেয়ার সময় প্রায় সময় পল্লী চিকিৎসক জিন্নাহ ঐ সুযোগ পেলেই ঐ গৃহবধুর বাবার বাড়িতে যাতায়াত করত।
এই ঘটনায় গৃহবধুর স্বামীর বাড়ির লোকজনসহ এলাকারবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বিকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহবধুর স্বামী, ছোটভাইসহ লোকজন ওই পল্লী চিকিৎসক জিন্নাহকে পাগলারহাট বাজারে বটতলায় আটক করে গণধোলাই দেয়ার সময় কয়েকজন দোকান্দার তাকে মুক্ত করে।
এদিকে পল্লী চিকিৎসক জিন্নাহ থানা পুলিশকে মোবাইল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ামাত্র বাজারের উপস্থিত লোকজন চরম উত্তেজনায় ফেটে পরে এবং জিন্নাহকে আবারও গণধোলাই দিতে উদ্যত হলে পুলিশ জিন্নাহকে নিরাপদ হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে।
পরে উভয় পক্ষের লোকজনসহ শিলখুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবং তিলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলের উপস্থিতিতে পল্লী চিকিৎসক জিন্নাহ আর কোনদিন ঐ গৃহবধুর সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করে থানা থেকে মুক্ত হয়।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকার কারণে পল্লী চিকিৎসক জিন্নাহকে থানায় আনার পর উভয় পক্ষের অভিভাবক ও দুই চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।