মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০২৪
Homeটাঙ্গাইল জেলাবাসাইলে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ৯ দিনপর শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বাসাইলে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ৯ দিনপর শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের বাসাইলে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত হওয়া জিজান হাসান দীপ্ত (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ দিন পর মারা গেছেন।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬ টার দিকে ঢাকা পপুলার হাসপাতালে তিনি মারা যায়।

জিজান হাসান দীপ্তর চাচাতো মামা ও বাসাইল পৌরসভার কাউন্সিলর প্রিন্স মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দীপ্ত সখীপুর উপজেলার চাকদহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মল্লিকের ছেলে। সে ঢাকায় বিজিবি পিলখানায় অবস্থিত বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ থেকে গেল বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ ঘটনায় বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন বলেন, সকালে জিজান হাসান দীপ্তর মা-বাবা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৭ জানুয়ারি হামলার ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী জিজান হাসান দীপ্তর মা বাদী হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪জনের কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৩ জানুয়ারি বাসাইল দক্ষিণপাড়া এলাকায় জিজান হাসান দীপ্ত তার নানা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরের দিন দুপুরে সমবয়সী বাসাইল উত্তরপাড়ার নাঈম ও সজল খানের সঙ্গে জিজান হাসান দীপ্ত বাসাইল বাজারে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে নাঈমকে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান শাকিল বাসাইল বাজারের একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। এসময় জিজান হাসান দীপ্ত ও সজল খানও উপস্থিত ছিল।

এরপর সন্ধ্যায় আবার তারা তিনজনে মিলে বাসাইল বাজারের দিকে যাওয়ার সময় বাসাইল মনি ক্লিনিকের সামনের মোড়ে পৌঁছালে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান শাকিলের নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় নাঈম ও সজল দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে জিজান হাসান দীপ্তকে ধারালো দা, কাঠের স্ট্যাম্প, লোহার পাইপে মোটরসাইকেলের চেইন প্রিমিয়াম ঝালাইযুক্ত দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান শাকিলসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে জিজান হাসান দীপ্তকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো করা হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ওইদিন থেকে তাকে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -