বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
Homeটাঙ্গাইল জেলামধুপুরমধুপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ 

মধুপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ 

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ১১ নং শোলাকুড়ী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার নগদ আর্থ সহায়তার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তালিকায় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেনের শ্বশুড়, ভায়রা, সহোদর তিন ভাই, তিন শ্যালক, শ্যালকের তিন ছেলেসহ ৫১ জন নিকট আত্মীয়ের নাম দিয়ে ২৫‘শত টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া তালিকায় প্রবাসী, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, স্বচ্ছল ও সম্পদশালীদের নাম নিয়ে এলাকাতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন ও ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এছাড়া সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তেজগাঁও, ঢাকা, উপপরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন টাঙ্গাইল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মধুপুর ও উপজেলা চেয়ারম্যান মধুপুর, টাঙ্গাইল বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, শোলাকুড়ী ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার আড়াই হাজার টাকার সুবিধাভোগীর তালিকায় চেয়ারম্যানের ভাই, ভাতিজা, ভায়রা, শ্বশুড়, শ্যালক, শ্যালকের ছেলেসহ ৫১ নিকট আত্মীয় এবং পাকা বাড়ী ২০/২৫ বিঘা কৃষি জমির মালিক, ওমান প্রবাসী, স্বচ্ছল ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যানের আত্মীয়তার সুবাদে প্রভাবশালী, ধনাঢ্য বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে তালিকায়। যা ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সামিল।

অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার অর্থ সহায়তার আওতায় ১১ নং শোলাকুড়ি ইউনিয়নে ৩‘শত ৬০ জন সুবিধাভোগীর নাম চূড়ান্ত করে তালিকা প্রনয়ন করা হয়। এ তালিকায় ৯ টি ওয়ার্ডে সমহারে বন্টন না করে চেয়ারম্যান তার ৫১ নিকট আত্মীয়সহ নিজ ওয়ার্ডেই বরাদ্দ দিয়েছেন ৮৬ জনের। আবার উপকারভোগীর নাম ঠিকানা থাকলেও মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে অন্য জনের। এছাড়া তালিকায় অন্যান্য সরকারী একাধিক সুবিধাভোগী ব্যক্তির নামও রয়েছে।

এ ব্যাপারে শোলাকুড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ও শোলাকুড়ী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এসএম খাইরুল বাশার সোহেল জানান, ইউপি চেয়ারম্যানের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে সুবিধা বঞ্চিত হয়েছে করোনায় কর্মহীন এলাকার অহসায় গরীব মানুষ। আর টাকার লোভে ধণীদের সাঁজানো হয়েছে গরীব।

শোলাকুড়ী বাজার বণিক সতিমির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন, আওয়ামী লীগে নেতা মুরাদ হোসেন, কৃষক আ. আজিজসহ এলাকার অনেকেই জানান, তালিকায় চেয়ারম্যান ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিজের ভাই-ভাতিজা, শ্যালক, আত্মীয়-স্বজনদের নাম এবং বিত্তশালীদের নাম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। আমরা এর সুবিচার চাই।

এ ব্যাপরে শোলাকুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। নিয়ম মেনেই তালিকা প্রনয়ন করা হয়েছে। আমার আত্মীয়-স্বজনরা তো ইউনিয়নের বাইরের না। তারা যদি গরীব হয় তাহলে তাদের নাম দেয়া কি অন্যায়।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত স্বাপেক্ষে দোষীসাব্যস্ত হলে অব্যশই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মধুপুরের ইউএনওকে বলা হয়েছে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -