মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাযমুনায় মাছ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা, ফাঁস জালে ধরা পড়ছে বাঘাইড়

যমুনায় মাছ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা, ফাঁস জালে ধরা পড়ছে বাঘাইড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে দফায় দফায় পানি বৃদ্ধিতে দীর্ঘ কয়েক মাস তেমন কোন মাছ জালে ধরা পড়েনি। যার কারণে অভাব-অনটনে পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিল অসহায় শতশত জেলে পরিবার। মাসখানেক আগে জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে নামলেও তার কয়েকদিন পরেই শুরু হয় মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এতে মা ইলিশ শিকার রোধে সরকারি নির্দেশনা মতে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর রাত ১২ টা পর্যন্ত নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে আরও মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে জেলেদের।

এরপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে টানা ৩ সপ্তাহ পর ফের কর্মব্যস্ততায় ফিরেছে যমুনা নদীতে মাছ শিকারী জেলেরা। জেলার যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন স্থান ও ঘাটগুলোতে জেলেরা মাছ ধরতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে নদীতে নামে। গেল ২৮ অক্টোবর রাত ১২ টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই কিছু কিছু জেলে নদীতে নৌকা নিয়ে নেমে পড়েছে। আবার কেউ কেউ মাছ ধরার জালগুলো মেরামত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দিনের শেষ ভাগে নৌকা নিয়ে দলে দলে মাছ শিকারে নেমে যায়।

শিকারে গিয়ে তারা সারারাত বাঘাইড় মাছের পেছনে সময় ব্যয় করে ভোরে চলে আসে নদীর কিনারে। তবে খালি হাতে নয়, কম-বেশি বাঘাইড় ও অন্যান্য মাছ শিকার করে ফিরে জেলেরা। নৌকা ভেদে ৩ থেকে ১০ জনে দল বেঁধে নদীতে নামে তারা। জেলেদের জালে ৬ থেকে ২৫ কেজি ওজনের বাঘাইড় বেশি ধরা পড়ে। এ বাঘাইড় স্থানীয় হাট-বাজারে ব্যাপক চাহিদা। ৮’শ থেকে ১২’শ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। ক্রেতারা একা কিনতে না পারলেও কয়েকজনে মিলে কিনে তা ভাগ করে নেন।

গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে নদীতে বেশি বাঘাইড় ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের পাথরঘাট এলাকার জেলে নিজাম উদ্দিন মন্ডল ও আরশেদ আলী। তারা জানান, ‘প্রত্যেক বছরে এ সময়ে যমুনার পানি অনেকখানি কমে আসে। আর যমুনা পাড়ের জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন এ সময়ের অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকেন। নদীতে যত পানি কমবে তত বেশি বাঘাইড় ধরা পড়ে জালে। বর্তমানে বাঘাইড় ধরার ভরা মৌসুম। তাই আমরা জেলেরা দিনের শেষবেলা নদীতে নেমে পড়ি।

অপর জেলে রকিবুল খান জানান, শুধু আমরা নই নদীতে পানি কমে আসায় যমুনা চরাঞ্চল বেষ্টিত কালিহাতী, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর ও নাগরপুর উপজেলার শতশত জেলে মাছ শিকারে অসংখ্য ছোট-বড় নৌকা নিয়ে নদীতে শিকারে চলে যাই। বাঘাইড় বা অন্যান্য মাছ ধরে কিনারে আসি। সবদিন সবার জালে বাঘাইড় ধরা পড়ে না। ভাগ্যগুণে আবার অনেকের জালে দু’চারটিও ধরা পড়ে। আবার কয়েক দিনেও একটাও মিলে না, শূন্য হাতে বাড়ি ফিরি।

একই এলাকার জেলে রাশেদুল ইসলাম ও খোরশেদ মন্ডল জানান, নদীতে পানি কমতে শুরু করায় প্রচুর পরিমাণে বাঘাইড় মাছ ধরা পড়ছে। অন্যান্য মাছ ধরা পড়ে, কিন্তু সীমিত। বাঘাইড় মাছ ধরতে কারেন্ট (ফাঁস) জাল ব্যবহার করি। মাছ ধরতে নদীতে কোন ধরণের সমস্যা হয় কি না জানতে চাইলে তারা জানান, ৭-২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাছ ধরা বন্ধ ছিল। তার আগে মাছ শিকারে নেমে ছিলাম। তখন নদীপথে ডাকাতের কবলে পড়ি। তারা ৩৫ কেজি ওজনের ২টি বাঘাইড়সহ আমাদের জাল লুট করে নেয়। এখন নদীতে ডাকাতের আতঙ্ক।

টাঙ্গাইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, গত ২৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা উঠায় জেলেরা ফের কর্মব্যস্ততায় ফিরছে। নদীতে পানি কমতে থাকায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বাঘাইড়। বর্তমানে বাঘাইড় মাছের ভরা মৌসুম। নদীতে ডাকাত আতঙ্কের বিষয়ে তিনি জানান, জেলার ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের চৌহালীর নৌ-পুলিশের সদস্যরা টহল দিচ্ছে। জেলেরা যেন নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করতে পারে সে লক্ষ্যে মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হবে।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular