চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে আসা ২০ হাজার দর্শককে মোটেও হতাশ করেনি মাশরাফি বাহিনী। এক ম্যাচ হাতে রেখেই সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে তার দল। সেই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা দ্বাদশ জয়ের রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ।
হিসাব বলছে, ২০১৪ সালের পর থেকে ১২টি ওডিআই খেলেছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। যার কোন ম্যাচেই মাশরাফি-মুশফিকদের পরাস্ত করতে পারেনি জিম্বাবুয়েনরা।
বুধবারে বাংলাদেশের জয়ের দিনে অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। তবে বেশ কয়েকটি ঘটনা বেশ গুরুত্ববহ। আর সেই ঘটনাগুলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:
মুশফিকের মাইলফলক
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম উইকেটরক্ষক হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁলেন মুশফিক। ১৯৭টি ডিসমিসাল নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। প্রথম ওয়ানডেতে একটি ক্যাচ নেওয়ার পর অপেক্ষা ছিল আর দুটির। আজ হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও শন উইলিয়ামসকে গ্লাভস বন্দী করে ২০০ ডিসমিসালের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মুশফিক। আর মাত্র ৫টি ডিসমিসাল হলেই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের নজির গড়া শীর্ষ ১০ উইকেটরক্ষকের তালিকায় ঢুকে পড়বেন তিনি।
সাইফউদ্দিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং:
বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট লাভ করেন সাইফউদ্দিন। তবে এবার আট মাসের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তিন উইকেট লাভ করে তিনি। এদিন প্রতিপক্ষের শিবিরে বোলিং তাণ্ডব চালিয়ে বড় স্কোর গড়তে বাঁধা দেন তিনি।
রিভিউ নিয়ে লিটনের রক্ষা, অত:পর অর্ধশতক
আজকের ম্যাচে প্রথম ওভারে আউট হতে বসেছিলেন লিটন দাস। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। কাইল জার্ভিসের ইন-সুইঙ্গার ব্যাটে খেলতে পারেননি লিটন, বল লাগে তার প্যাডে।
জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার রড ট্যাকার দেন এলবিডব্লিউ। তবে হক-আইতে দেখা যায়, বল স্টাম্প মিস করত। বেঁচে যান লিটন। তখন লিটন ও বাংলাদেশ দলের রান ছিল শূন্য। তবে সেই যাত্রা থেকে বাঁচার পর ঠিকই ৮৩ রান তুলে নেন তিনি।
ফজলে রাব্বির ‘ডাক’ মিশন
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অভিষিক হয় ফজলে রাব্বির। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচটিতে জাতীকে ডাক উপহার দেন তিনি। কিন্তু তারপরও তার প্রতি আস্থা রাখে টিম ম্যানেজম্যান্ট-অধিনায়ক। তাই দ্বিতীয় ম্যাচেও খেলানো হয় রাব্বিকে। আর বুধবার ওয়ানডাউনে নেমেই ফের ডাক উপহার দেন রাব্বি।
ইমরুলের সেঞ্চুরি মিসের কান্না
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং করা ইমরুল কায়েস আজ ৯০ রানের ঘরে আউট হয়েছেন। ম্যাচটিতে শুরু থেকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং উপহার দেন তিনি। প্রথমে লিটনের সঙ্গে জুটি বেধে দলকে এগিয়ে নেয়া ছাড়াও আউট হওয়ার আগমুহুর্তে মুশফিকের সঙ্গে দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ইমরুল। কিন্তু ইনিংসের ৩৭তম ওভারে সিকান্দার রাজার বল হিট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন তিনি।
বাংলাদেশের টানা দ্বাদশ জয়
২০১৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে জিম্বাবুয়ে। মজার ব্যাপার হলো, এই চার বছরে খেলা ১২টি ম্যাচেই টাইগারদের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
