মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাকালিহাতীকালিহাতীতে ৬৮তম তারকব্রহ্ম হরিনাম মহানামযজ্ঞ, ভক্তি সুধাবর্ষণে আধ্যাত্মিক মহিমা

কালিহাতীতে ৬৮তম তারকব্রহ্ম হরিনাম মহানামযজ্ঞ, ভক্তি সুধাবর্ষণে আধ্যাত্মিক মহিমা

শুভ্র মজুমদার, কালিহাতী: বিশ্বশান্তি ও দেশমাতৃকার কল্যাণ কামনায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সিলিমপুর গ্রামে শ্রী শ্রী পাগল রামগোপাল ব্রহ্মচারী আশ্রমে ৬৮তম তারকব্রহ্ম হরিনাম মহানামযজ্ঞ মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চারদিকে ভক্তিময় পরিবেশ, নিরবচ্ছিন্ন নামসংগীত, ধূপ-দীপের সুঘ্রাণ আর ভক্তদের অন্তঃস্রোত ভালোবাসায় আশ্রম প্রাঙ্গণ এক অপার আধ্যাত্মিক মহিমায় আলোকিত হয়ে ওঠে।

১৪ জানুয়ারি অরুণোদয় থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী চলা এই মহাযজ্ঞে দেশ-বিদেশের ভক্তদের মিলনমেলা বসে। আশ্রম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ভক্তবৃন্দ তাদের সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে প্রসাদের বিশেষ ব্যবস্থা করেন। আয়োজনে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে অংশ নিয়ে মহাযজ্ঞের পবিত্রতাকে আরও গভীরতর করে তোলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালিহাতী পৌর বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শহিদুর রহমান সিদ্দিকী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তিনি বলেন, “সিলিমপুর গ্রামে আয়োজিত এই মহানামযজ্ঞ আমাদের পৌরসভার আওতাধীন, তাই আমি প্রশাসনিকভাবে সবাইকে অবগত করেছি। এমন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের সফলতা সবার সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে। আমি কৃতজ্ঞ সকল ভক্ত ও আয়োজকদের প্রতি, যারা আন্তরিকতার সঙ্গে এই নামযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আগত ভক্তদের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেছেন।”

শ্রী শ্রী পাগল রামগোপাল ব্রহ্মচারী আশ্রমের আহ্বায়ক নিতাই চন্দ্র জোয়ারদ্দার-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হরিমোহন পাল-এর তত্ত্বাবধানে মহাযজ্ঞটি পরিচালিত হয়। এছাড়া সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শ্যামল চন্দ্র সাহা, নারায়ণ চন্দ্র পোদ্দার, গোপাল চন্দ্র সেন, নির্মল চন্দ্র দাস (কালা), প্রভাত চন্দ্র দত্ত, বিপ্লব সরকার, প্রকাশ চন্দ্র দাস ও কার্তিক সরকার (দয়াল) প্রমুখ।

বৈদিক শাস্ত্র মতে, সংকীর্তন যজ্ঞের মাধ্যমে ঈশ্বরের নামগান প্রচারিত হয়, যা আত্মার শান্তি ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ লাভের অন্যতম পথ। আয়োজকদের মতে, কলিযুগের নানাবিধ সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মাঝে ঈশ্বরপ্রেম ও ধর্মীয় চেতনাকে জাগ্রত করতেই এই মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।

মহাযজ্ঞের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভক্তদের প্রতি সেবা ও আতিথেয়তা। আশ্রমের সেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা অতিথিদের প্রসাদ পরিবেশন ও যত্ন নিতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। ভক্তদের প্রতি এমন আন্তরিক সেবার মাধ্যমে আশ্রমের আধ্যাত্মিক ও সেবামূলক আদর্শ আরও গভীরভাবে ফুটে ওঠে।

এই মহতী ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আয়োজনের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে পরম শান্তি ও ঈশ্বরপ্রেমের আলো ছড়িয়ে পড়ুক—এই কামনায় নামযজ্ঞটি সম্পন্ন হয়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular