গাজীপুরে ভাগ্নি হত্যা মামলায় মামার মৃত্যুদন্ড

 

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক:
গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাগ্নিকে গলা কেটে হত্যার দায়ে মামাকে মৃত্যুদন্ড এবং অপর দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রায়ে মুত্যুদ- প্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দন্ড প্রাপ্ত দুই আসামিকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে সশ্রম কারাদন্ডে রায় দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া গ্রামের হাসমত আলী ওরফে হাসেমের ছেলে মো. রিপন মিয়া (৩৫)। যাবজ্জীবন দন্ড প্রাপ্তরা হলেন- বগুড়া সদর উপজেলার ভাটকান্দি গ্রামের মো. আব্দুর রহিমের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৩) ও শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি থানার মোস্তফার ছেলে মো. মোজাফফর হোসেন (২১)।
গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে রিপন মিয়া তাঁর দুই সহযোগীকে নিয়ে আপন ভাগ্নি নাজমীনকে হত্যা করে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ছলিং মোড় (চকপাড়া) এলাকার হাসমত আলীর মেয়ে আছমা বেগম তার প্রথম ঘরের দুই কন্যাসন্তান নাসরিন (১৮) ও নাজমীনকে (৭) বাপের বাড়ি রেখে অন্যত্র বিয়ে করেন। তাঁর বাপের বাড়ির সঙ্গে প্রতিবেশী করিম গংদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আছমার মা মিনুজা বেগম ও মেয়ে নাজমীনকে বাড়ি রেখে বাবা হাসমত আলী টাঙ্গাইল বেড়াতে যান। এ দিন রাত আড়াইটার দিকে নানির সঙ্গে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মেয়ে নাজমীনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উঠানে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আছমা বেগম বাদী হয়ে ৩০ অক্টোবর প্রতিবেশী আব্দুল করিম, আব্দুল কাদির ও আব্দুল মোতালেবকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খন্দকার আমিনুর রহমান মামলার তদন্ত করে নিহতের আপন মামা মো. রিপন মিয়া ও তার দুই সহযোগী রবিউল এবং মোজাফফরকে গ্রেফতার করে। রিপন মিয়াসহ দুই সহযোগী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে রিপন মিয়া স্বীকার করেন, পূর্বশত্রুতা ও জমিসংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষ করিম গংদের ফাঁসাতেই তিনি তার ভাগ্নিকে হত্যা করেন। মামলায় আট সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহম্মদ, আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ওয়াহিদুজ্জামান আকন (তমিজ)।

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর