মানবতার ফেরিওয়ালা তুহিন সিদ্দিকী, মানুষের সেবায় খুঁজে পান জীবনের সার্থকতা

একজন মানুষের মানবিক পথচলা, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সেবার গল্প

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য। কথাটি অনেকেই বলেন, কিন্তু নিজের জীবনের একটি বড় অংশ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন খুব কম মানুষই। তেমনই একজন মানবিক মানুষ তুহিন সিদ্দিকী। অসহায়, দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যিনি ইতোমধ্যে পরিচিতি পেয়েছেন ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে।

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রামে জন্ম তুহিন সিদ্দিকীর। নিজ এলাকায় শুরু হয় তাঁর শিক্ষাজীবন। পরে টাঙ্গাইলের কাগমারী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। তাঁর শিক্ষাজীবন সম্পর্কে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তুহিন সিদ্দিকীর মানবিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে জীবনের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় বাবাকে হারাতে হয় তাঁকে। বাবার সেই মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। সেই শোক থেকেই তাঁর মনে জন্ম নেয় এক দৃঢ় সংকল্প, চিকিৎসার অভাবে যেন আর কোনো মানুষকে জীবন দিতে না হয়।

বাবাকে হারানোর সেই বেদনা থেকেই শুরু হয় তাঁর মানবিক পথচলা। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং চিকিৎসাবঞ্চিত রোগীদের সহযোগিতা করা হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৩ থেকে ১৪ বছর ধরে তিনি অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে সহযোগিতা করে আসছেন।

বিশেষ করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য তাঁর সহযোগিতা হয়ে ওঠে ভরসার জায়গা। বড় হাসপাতালগুলো কোথায়, কীভাবে চিকিৎসা নিতে হয়, কোন চিকিৎসকের কাছে গেলে উপকার পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে অনেক রোগী ও তাঁদের স্বজন থাকেন অজ্ঞাত। এর সঙ্গে যুক্ত হয় আর্থিক সংকট ও নানা সামাজিক সীমাবদ্ধতা। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন।

এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান তুহিন সিদ্দিকী। রোগীদের চিকিৎসার পথ দেখানো, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা এবং বিপদে তাঁদের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড।

মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই যেন তাঁর জীবনের অন্যতম ব্রত। বাবাকে হারানোর বেদনাকে তিনি রূপ দিয়েছেন অন্যের জীবন বাঁচানোর প্রত্যয়ে। তাঁর এই মানবিক পথচলা শুধু একজন ব্যক্তির সেবার গল্প নয়, বরং সমাজের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্যেই তুহিন সিদ্দিকী খুঁজে পান জীবনের সার্থকতা।

এম সাইফুল ইসলাম শাফলু

সম্পাদক, নিউজ টাঙ্গাইল

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর