প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হারুন অর রশিদ এখন অসহায়। তিনি কলেজ পড়ুয়া তিন কন্যা সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বসবাসের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর যদি দেওয়া হয় তাহলে অনেক উপকার হবে পবিবারটির। এই অসহায় পরিবারটি থাকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার টেংরা পাড়া গ্রামে।
জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে গোয়ালন্দ টেক্সটাইল মিলে চাকরি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন হারুন অর রশিদ। তবে মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সেই চিন্তায় স্ট্রোক করে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে রয়েছেন। এরপর থেকে তার সংসার চলে মানুষের সহযোগিতায়। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। বর্তমানে কলেজ পড়ুয়া তিন কন্যা সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণ একটি ঘরে খেয়ে না খেয়ে কোন রকম জীবন-যাপন করছেন অসহায় হারুন অর রশিদ।
সরকারিভাবে তাদের একটি ঘর দেওয়া হলে তারা ভালভাবে বসবাস করতে পারতেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের ঘর প্রত্যাশা করে অসহায় পরিবারটি।
ওই এলাকার বাসিন্দা পান্নু বিশ্বাস বলেন, ‘হারুন অর রশিদ একজন চরম অসহায় মানুষ। প্যারালাইসিস হয়ে ঘরে পড়ে আছেন; কোন কাজ কর্ম করতে পারেন না। আমরা মাঝে মধ্যেই মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়ে এনে দেই। তার সামান্য ভিটামাটি থাকলেও বসবাসের যোগ্য ঘর নেই। সরকারের পক্ষ থেকে যদি একটি ঘর দেওয়া হতো তাহলে ভালভাবে বসবাস করতে পারতো পরিবারটি। ১০ বছর ধরে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বিয়ের উপযুক্ত মেয়ে নিয়ে একই ঘরে বসবাস করছেন হারুন অর রশিদ। সরকারের কাছে এই অসহায় পরিবারটিকে একটি বসত ঘর দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
নাজমা বেগম নামে আরেকজন এলাকাবাসী বলেন, ‘আসলেও এদের মত অসহায় মানুষ ছোট ভাকলা ইউনিয়নে কেউ নেই। সরকার একটি ঘর যদি এই অসহায় পরিবারকে দেয় তাহলে তিনি মেয়েসহ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত বাবা ভালোভাবে থাকতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই অসহায় পরিবারটিকে একটি ঘর দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
ছোট ভাকলা ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে যে ঘরের তালিকাগুলো ইউএনও এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে; সেগুলো আশ্রয় প্রকল্পের ঘর। পরবর্তীতে যে ঘর আসবে সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে হারুন অর রশিদকে একটি ঘর দেওয়া হবে।’
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ফোনে বলেন, ঘরের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে একটি আবেদন করে রাখতে বলবেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে তার একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।