Homeরাজনীতিজ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের চাপ ছিল : রিজভী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের চাপ ছিল : রিজভী

আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপের কারণে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আরও আগেই বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। তবে জনগণকে সুরক্ষা দিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছিল সরকার।

বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর ) বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আরও অনেক আগেই বাড়ানো উচিত ছিল। তবে জনগণকে এর থেকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাপ দিচ্ছে- আপনারা এত ভর্তুকি কেন দিচ্ছেন? তারা এসব কথা বলে, কারণ আমাদের প্রায়ই তাদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়।

সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো সমন্বিতভাবে ঘটানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, বাসে আগুন দেওয়া, পুড়িয়ে দেওয়া, ট্রেনে আগুন দেওয়া- এসব খুব পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের একটি প্রতিবেশী দেশের একটি ফোন নম্বর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে একই দিনের একটি ইংরেজি ভাষার সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। রিজভীর দাবি, ব্যক্তিদের একটি বোমা খুঁজে বের করতে, বিস্ফোরণের পর সেটির ছবি তুলে ওই নম্বরে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে তাদের অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ওই টেলিফোন নম্বরটি একটি প্রতিবেশী দেশের নম্বর। তাহলে আপনারা বুঝতেই পারছেন, ষড়যন্ত্র কত গভীর।

একই ব্রিফিংয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিও অব্যাহত রেখে দলটি তাদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এ্যানি বলেন, উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা আমাদের এই লড়াই, এই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের রাজপথের কর্মসূচিও অব্যাহত রাখছি।

আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দলটি ‘অরাজকতা ও সন্ত্রাসের’ মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নতুন ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়েছে এবং ৫ আগস্ট তাদের সদস্যরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। বিদেশ ও দেশের ভেতর থেকে— উভয় জায়গা থেকেই ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, দুটি অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই ও সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।সংসদের বর্তমান বিরোধী দল নিয়েও সমালোচনা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, বর্তমানে যারা সংসদে বিরোধী দল, তাদেরও হালকাভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা যেদিন শপথ নিয়েছিলাম, সেদিন তারা উপস্থিত ছিল না।

তিনি বলেন, গত সাত মাসে বিরোধী দল অসহযোগ, সড়ক মার্চ ও লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক ভাষাকে গালাগালের ভাষায় পরিণত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ্যানী বলেন, গত সাত মাসে আমরা তাদের অনেক ধরনের কর্মসূচি দেখেছি— অসহযোগ, সড়ক মার্চ, লংমার্চ। তারা রাজনীতির ভাষাকে গালাগালের ভাষায় পরিণত করেছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক সৌজন্য নেই, শালীনতা নেই। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নষ্ট করে তারা আজ আবারও একটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, ফ্যাসিবাদকে সুযোগ করে দিতে চাইছে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular