নিজস্ব প্রতিনিধি:করোনাভাইরাসে আক্রান্ত টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের মহিউদ্দিন মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় তিনি ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মহিউদ্দিনের ভাইয়ের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. সাইফুর রহমান খান। টাঙ্গাইল জেলার প্রথম মৃত্যুবরণকারী করোনাভাইরাস আক্রাস্ত ব্যক্তি তিনি। মহিউদ্দিন আক্রান্ত হয়ে গাজীপুর থেকে পালিয়ে নিজ এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন।
মহিউদ্দিন টাঙ্গাইলের করোনা আক্রান্ত দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ঘোনার দেউলী পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গাজীপুরের একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ৮ এপ্রিল টাঙ্গাইলে দুই করোনা রোগী সনাক্তের কথা জানা যায় আইইডিসিআরের তথ্য থেকে। কিন্তু গত ৭ তারিখে মির্জাপুরে এক স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা সনাক্ত ছাড়া দ্বিতীয় আক্রান্ত ব্যক্তির কোন তথ্য ছিলো না জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। জেলা থেকে পাঠানো করোনা নমুনার সব রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে সিভিল সার্জন অফিস। পরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আইইডিসিআর থেকে সেই ব্যক্তির নাম, উপজেলা আর মোবাইল নাম্বার দেয়া হলে সন্ধানে নামে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর অবশেষে মোবাইল ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিউদ্দিনকে খুঁজে বের করা হয়।
ঘাটাইল উপজেলার নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, মহিউদ্দিন গাজীপুরের একটি কারখানায় কাজ করতেন। কাজের সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাতেই বসবাস করতেন। গাজীপুরে থাকাবস্থায় জ্বর-সর্দি, কাশিতে আক্রান্ত হলে ঢাকায় আইইডিসিআরে তার নমুনা পরীক্ষা করান। এতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে নিজ বাড়ি ঘাটাইল উপজেলা রসুলপুর ইউনিয়নের ঘোনার দেউলি পশ্চিমপাড়া এসে মোবাইল বন্ধ রেখে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার সন্ধান বের করা হয়। সেই রাতেই মহিউদ্দিনকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘোনার দেউলি গ্রামের ১২০ টি বাড়ি লকডাউন ঘোষনা করা হয়।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. সাইফুর রহমান খান বলেন, মহিউদ্দিনের ভাই আমাদেরকে মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
