শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাটাঙ্গাইলে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা মামলা

টাঙ্গাইলে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা মামলা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্কঃ সম্প্রতি গ্রেপ্তার টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোর্শেদের নিহত দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন নয়জনের নাম উল্লেখসহ ১২/১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

অপরদিকে সোমবার বিকালে তিন দিনের রিমান্ড শেষে মোর্শেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মুন্সী তারেক পটন ও তার স্ত্রী লিনা, পারভেজ খান রনি, সোহেল ওরফে বাবু, অন্তর সূত্রধর, কাউন্সিলর আতিকুর রহমান মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সুমা, রাফসান ও আয়নাল মিয়া।

আদালত পরিদর্শক তানভীর আহমেদ বলেন, টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতের বিচারক শামসুল আলম প্রদিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর মোর্শেদের বাসার সামনে সৈয়দ শরিফ উদ্দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া থাকতেন। সেখান থেকে ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদের লোকজন অপহরণ করে। পরে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী মোস্তফার মাধ্যমে মোর্শেদ ও সৈয়দ আমেনা পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর জোর করে কাজী মোস্তফার বালাম বই থেকে মোর্শেদ তাদের কাবিন নামা ছিড়ে ফেলে দেয়। তাদের সংসারে ছয় বছরের এক মেয়েও রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারের মাঝে মধ্যেই ঝগড়া লেগে থাকত। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে মুন্সী তারেকের বাসায় দাওয়াতের কথা বলে পিংকিকে নিয়ে যায় মোর্শেদ। সেখানেই অভিযুক্ত আসামিরা পিংকিকে হত্যা করে লাশ গুম করে। এতদিন কাউন্সিলর মোর্শেদের ভয়ে মামলা করতে সাহস পায়নি নিহতের পরিবার।

মামলার বাদী সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ে পিংকিকে মোর্শেদ জোড় করে অপহরণ করে বিয়ে করে। এরপর মোর্শেদসহ তার বাহিনীর লোকজন আমার মেয়েকে হত্যা করে। মোর্শেদসহ তার ক্যাডার বাহিনীর ফাঁসি দাবি করছি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোর্শেদকে গত ১৯ আগস্ট গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দুইটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে পুলিশ।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তার মোর্শেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সোমবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে মোর্শেদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদ তার ওই অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এক ডজন মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular