নিউজ ডেস্ক: গত দুই সপ্তাহ ধরে টাঙ্গাইলে উত্তরের হিমেল বাতাসের সঙ্গে কুয়াশা বাড়ছে। এ অবস্থায় জ্বর-ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সাধারণ মানুষ।
গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক করে শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে। এছাড়াও জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভর্তি থাকছে বাড়তি রোগী। এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শনিবার (১২ নভেম্বর) ৪৩ সিটের বিপরীতে ভর্তি ছিলো ১১৬ জন রোগী। আর শুক্রবার ভর্তি ছিলো ১১৭ জন। হাসপাতালের ওয়ার্ড ছাড়িয়ে রোগী ঠাঁই হয়েছে বারান্দার মেঝেতেও।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে অর্ধশতাধিক রোগী। আর এই বাড়তি রোগীর চাপে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের।
আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা বলেন, ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পরেও বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে আমাদের নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের।
সদর উপজেলার গালা গ্রামের আতিকুর রহমান বলেন, তার চার বছরের ছেলেকে বুধবার জ্বর-ঠাণ্ডা নিয়ে ভর্তি করেছেন। প্রথম দিন মেঝেতে চিকিৎসা নিলেও দুই দিন যাবত সিটে চিকিৎসা নিয়েছেন। ছেলে সুস্থ হওয়ায় শনিবার দুপুরে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান নুরুল ইসলাম শামীম বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। আর এই সময়ে ঠাণ্ডাজনিত নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। এর প্রভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদেকুর রহমান বলেন, ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। এতে রোগীদের থাকতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে তাদের রোগ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. লুৎফর রহমান বলেন, গত ১ সপ্তাহে হাসপাতালে প্রায় ৮ শতাধিক শিশু ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভর্তি হয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আমরা রোগীদের পর্যন্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।