নিউজ ডেস্ক: বাংলা চলচিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা মান্নার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী অনেকটা নীরবেই পালিত হয়েছে শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষে কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া মাহফিল করা হয়েছে। তিনি শায়িত আছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে।
শুক্রবার মান্নার বাড়িতে দেখা যায়, ভক্তরা মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে এসে কবর জিয়ারত করছেন। অনেকে আবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দুফোঁটা চোখের পানি ঝরাচ্ছেন।
দূর দুরান্ত থেকে আগতরা জানান, বোঝার পর থেকে আমি মান্নার সিনেমা দেখতে দেখতে তার ভক্ত হয়ে গেছি। মৃত্যুবার্ষিকী বড় আকারে পালন করা দরকার। নায়ক মান্না দেশের একজন কৃতি সন্তান। টাঙ্গাইলের স্থানীয়ভাবে সামজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মান্নার মৃত্যু ও জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি করা উচিত।
মান্না ভক্ত কালিহাতীর দেউপুরের কবির তালুকদার বলেন, হাজার হাজার মানুষের ভিড় ঠেলে অনেক কষ্ট করে তার কবরে মাটি দিয়েছিলাম। এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া আসার সময় প্রায়ই কবর দেখে যাই। স্থানীয়ভাবে কমিটি কিংবা স্মৃতি সংসদ করে মান্নার কর্ম বাঁচিয়ে রাখা উচিত।
স্থানীয়রা জানালেন , মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়াও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মান্নার কবর একবার দেখার জন্য অনেক লোক আসেন।
মান্নার ফুফু চামেলী বেগম বলেন, মান্না বাংলাদেশের কৃতি সন্তান হলেও তার জন্ম টাঙ্গাইলে। তাই টাঙ্গাইলে মান্নার নামে কোনো স্থাপনা প্রতিষ্ঠা এবং সড়কের নামকরণ করা হোক। সেইসঙ্গে তার কর্মময় স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয়-জাতীয় পর্যায়ে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে আরো উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
মান্নার বন্ধু আমিনুর রহমান তালুকদার লুলু বলেন, অসুস্থ থাকার কারণে মান্নার স্ত্রী মৃত্যুবার্ষিকীতে আজকে এখানে আসতে পারেননি। তবে ভাবির পরামর্শে আমরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিল ও তোবারক বিতরণ করেছি। এসময় মান্নার চাচা এলেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফী তালুকদার, মামা শিশির ও পরিবারের সদস্যসহ এলাকার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মান্নার ভক্তরা করব জিয়ারত করতে এসেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল চিত্রনায়ক এসএম আসলাম তালুকদার মান্না কালিহাতীর দূর্গাপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে ঢাকা কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে এফডিসির নতুন মুখের সন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে আসেন। তার অভিনীত প্রথম চলচিত্র তওবা।
এরপর একের পর এক ব্যবসা সফল চলচিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনে গড়ে তুলেন নিজের শক্ত ভীত। সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে তিনি প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সিনেমায় বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষের কথা উঠে এসেছে। জীবদ্দশায় অনেক সুপারহিট চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। সে কারণে বাংলা সিনেমার দর্শক আজও মনে ঠাঁই দিয়ে রেখেছেন মান্নাকে।
মান্নার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সিপাহী’, ‘যন্ত্রণা’, ‘অমর’, ‘পাগলী’, ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘জনতার বাদশা’, ‘লাল বাদশা’, ‘আম্মাজান’, ‘দেশ দরদী’ জেদী, ধর, মাতৃভূমি ইত্যাদি। আসলাম তালুকদার মান্না ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অগণিত ভক্তকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে চলে যান।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।