আর কত নিজেকে প্রমান করবেন তুষার? আগামী মাসের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। এরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে টেস্ট সিরিজ। ৩৬ ছুই ছুই তুষারের জন্য নিজেকে প্রমান করে জাতীয় দলে ফেরার এটাই ছিল শেষ সুযোগ।
আর সেই সুযোগটা বেশ ভালো ভাবে কাজে লাগালেনও বটে। চলতি জাতীয় লিগে ইতিমধ্যে ৩ সেঞ্চুরি হাকিয়ে আছেন শীর্ষ রানসংগ্রহাকদের তালিকায় শীর্ষে। তবুও নেওয়া হল না তাকে।
পেলেন না শেষ সুযোগটাও। কিন্তু কেন?
সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের জবাব দিতে হলো জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে। তিনি যা বললেন, তা তুষারের জন্য দুঃসংবাদই বটে।
প্রধান নির্বাচক বললেন, ‘তুষারকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে আমাদের। এরপর নির্বাচক, কোচ, অধিনায়ক, টিম ম্যানেজমেন্ট সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিওয়া হয়েছে। তুষার যেখানে ব্যাট করে, সেখানে জায়গা পাওয়া কঠিন। চারে তো মুশফিক খেলবে। পাঁচে মাহমুদউল্লাহ। চোট কাটিয়ে ফিরলে সাকিব খেলবে পাঁচে। তুষারকে দলে নিয়ে তো একাদশের বাইরে বসিয়ে রেখে লাভ নেই। কিন্তু একাদশে জায়গা কোথায়?’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ১১ হাজার রান করা প্রথম ও একমাত্র ব্যাটসম্যান তুষার। দেশের সর্বোচ্চ ৩১ সেঞ্চুরিও আছে তুষারের ঝুলিতে। সাম্প্রতিক ফর্ম অসাধারণ।
এবারের জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে করেছেন জোড়া সেঞ্চুরি, তৃতীয় রাউন্ডে সেঞ্চুরি আরেকটি। সব মিলিয়ে এই বছর ১২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে তুষারের রান ৭৬.১৮ গড়ে ১ হাজার ২৫১।
সেঞ্চুরি করেছেন ৭টি যা ক্রিকেট বিশ্বে সর্বোচ্চ।
তাহলে কি উপেক্ষা করা হলো এই ব্যাটসম্যানকে?
মিনহাজুল আবেদীন অবশ্য উপেক্ষা শব্দটার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘আমরা মোটেও ওকে উপেক্ষা বা অবহেলা করিনি। বিবেচনায় ছিল বলেই এত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি ও সিস্টেম মিলিয়েই ওকে রাখা যায়নি দলে। টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচ, আমরা সবাই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েছি। এসব সিদ্ধান্ত তো এক-দুই ম্যাচের বিবেচনা করে নেওয়া যায় না। অনেক বছর না হোক, অন্তত দুই-তিন বছর সার্ভিস দিতে পারবে কিনা, সেটা ভাবতে হয়েছে আমাদের।’
প্রধান নির্বাচকের এই বক্তব্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হলেও বলে দেয়, ৩৫ ছুঁইছুঁই তুষারের আর টেস্ট খেলার স্বপ্ন না দেখাই ভালো!
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।