মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
Homeসংবাদদেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় হিযবুত তাহরীর!

দেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় হিযবুত তাহরীর!

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর। রাজধানীসহ সারাদেশে লিফলেট বিলি ও পোস্টার ছাপিয়ে নতুন করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। সোমবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলও হয়েছে। গণতন্ত্র ও নির্বাচনবিরোধী হিযবুতের সদস্যরা ক্ষমতাসীন সরকারকে হঠিয়ে ‘খিলাফায় রাশিদাহ’ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হিযবুতের এই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার বিষয়ে এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।

জঙ্গিবিরোধী বিশেষায়িত ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা হিযুবতের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজরদারি করছি। তারা গোপনে গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে শীর্ষ নেতৃত্বসহ সংগঠনের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

বাংলাদেশে ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে হিযুবত তাহরীর। সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এই সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। উচ্চ শিক্ষিত, মেধাবী ও উচ্চবিত্ত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসা হিযবুত তাহরীরকে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই কট্টরপন্থী সংগঠন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই হিযবুত তাহরীর মেধাবী, উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যালের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দলে টানার চেষ্টা করে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ‘পাঠচক্রে’র আয়োজন করে কার্যক্রম চালাতো হিযবুত তাহরীর। খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য হিযবুত তাহরীর শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও দলে টানার চেষ্টা করে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথমদিকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা না থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিযবুতকে গুরুত্ব দেয়নি। পরে প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড শুরু করার পর জঙ্গি সংগঠন হিসেবে হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

গবেষণা সেল থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৫ সাল থেকে এই নভেম্বর পর্যন্ত হিযবুত তাহরীরের ৪৯ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী।

দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবিরোধী কাজে নিযুক্ত ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, হিযবুত তাহরীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে নিজেরা সংগঠিত হচ্ছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করার কারণ হিসেবে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের দলের সদস্যরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে খিলাফত প্রতিষ্ঠা তাদের জন্য অনেক বেশি সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, হিযুবত তাহরীরের সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত ও প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ হওয়ায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। মাঝে মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে বা মসজিদে নামাজ শেষে লিফলেট বিলি করে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের পোস্টার দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলামটর এলাকায় লিফলেট বিলি করে তারা। জামাল উদ্দিন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বাংলামটর এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালে বসেছিলেন। এসময় পাঁচ-ছয় জন যুবককে তিনি হিযবুত তাহরীরের লিফলেট বিলি করতে দেখেন। লিফলেটগুলোতে ক্ষমতাসীন সরকারকে হঠিয়ে খিলাফত প্রতিষ্ঠার আহ্বানসহ রাষ্ট্রবিরোধী নানারকম বক্তব্য ছিল।

গত শনিবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে হিযবুত তাহরীরের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪-এর একটি দল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। বাকি চারজনের মধ্যে একজন একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক, তিনজন মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী।

এ প্রসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পোস্টার সাঁটানো ও লিফলেট বিলি করছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে তাদের দলের নেতা ও সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।’

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular